পানির দামে চামড়া বিক্রি

পানির দামে চামড়া বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৯ ১৩ আগস্ট ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সারা দেশে এবার কোরবানির পশুর চামড়ায় ন্যায্য দাম মিলছে না। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারই চামড়া সবচেয়ে কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় পানির দরে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। আবার কোথাও বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এবার গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির কাঁচা চামড়ার মূল্য সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির ১৩ থেকে ১৫ টাকা। 

এই দরে ৩০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের লবণযুক্ত বড় গরুর চামড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় ট্যানারি-মালিকদের কেনার কথা। প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে লবণ, গুদাম ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহনসহ মোট ব্যয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ১০০ টাকা মুনাফা ধরলেও ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় মাঠপর্যায়ে কেনাবেচা হওয়ার কথা। 

তবে এই চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ১৫ থেকে ২৫ বর্গফুটের ছোট ও মাঝারি চামড়ার যৌক্তিক দাম ১ হাজার টাকা হলেও ৫০০ টাকার বেশি দরে কোথাও চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। নির্ধারিত দরের হিসাবে গড়ে ১০০ টাকায় ছাগলের চামড়া বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দিনের চেয়েও পিসপ্রতি দাম কমেছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। ঈদের দিনেও কোরবানি পশুর চামড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। উদ্দেশ্য সামান্য অর্থ রোজগার। কিন্তু দাম কম হওয়ায় লাভের চেয়ে ভোগান্তিতেই বেশি পড়তে হয়েছে। এমনকি লসও গুনতে হচ্ছে অনেককে।

অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় চামড়া কেনার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। চামড়া কেনা নিয়ে হানাহানির ঘটনাও ঘটতো। তবে গত কয়েক বছরের চেয়ে এবারের অবস্থা বেশ খারাপ। এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সেভাবে দেখাও যায়নি।

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মোহম্মদপুর ও পোস্তগোলা এলাকায় চামড়া বেচতে আসা মনির, রবিন, হালীম, মুস্তাকসহ বেশ কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত দামেই বেচতে হবে আমাদের। এর বেশি দেবে না ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সেই হিসাবে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তাই ছোট আকারের ১০ ফুট সাইজের চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে শ্রমিক, পরিবহন খরচ এবং লোনের টাকার সুদ‌ তো আছেই।

তারা আরো বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় কাঁচা চামড়া সরকারি দামের বেশি পাব না। তাই সরকারি হিসাবে ১০ ফুট চামড়া ৩৫০ টাকার সঙ্গে খরচ যোগ হবে। তাহলে আমরা এই চামড়াটা কত দিয়ে কিনব? এটা ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি কিনলেই লস।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার চামড়ার অস্থায়ী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেক।

এদিকে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তারা চামড়া সংগ্রহ করবে আরো ১০ থেকে ১২ দিন পর। ওই সময় পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা যদি চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেন, তাহলে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি বলেন, যেহেতু চামড়া কেনা শুরু হবে আরো কয়েকদিন পর। এখন দরপতনের সঙ্গে আমাদের যুক্ত করার বিষয়টি আশ্চর্যের। আমার মনে হয় গুজব ছড়িয়ে কেউ কেউ ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। 

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, এ বছর চামড়াখাতে খুব খারাপ অবস্থা। ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের বকেয়া প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা। অনেকেই টাকা পাননি। আমাদের প্রায় আড়াইশ আড়তদারের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন চামড়া কিনতে পারছেন। টাকার অভাবে চামড়া কিনতে না পারার কারণে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার এখন যে দাম আছে তার চেয়েও আরো কমে যেতে পারে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে টিপু সুলতান বলেন, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশি দামে চামড়া কিনছেন। না বুঝে ব্যবসা করতে এসে আড়তদারদের ওপর দোষ চাপানো ঠিক না।

তিনি জানান, রাজধানী থেকে প্রতি বর্গফুট লবণছাড়া চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় সংগ্রহ করা হচ্ছে। সে হিসাবে ছোট আকারের প্রতি পিস চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/টিআরএইচ/জেডআর