পাওনা টাকা চাওয়ায় মিলল জেল-জুলুম!

পাওনা টাকা চাওয়ায় মিলল জেল-জুলুম!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৭ ২৮ মে ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানের মালিক। 

স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। শুধু তা ই নয়, মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা৷

আট মাস আগে উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির ৭ নম্বর সেঁজামুড়ার ইউপি সদস্য বাছিরের ভাতিজা রাশেদ একই এলাকার মিন্টুর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন। প্রায় তিন মাস আগে এই টাকা রাশেদের কাছে ফেরত চান মিন্টু। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এ সময় মিন্টুর ভাই নুরু ঝগড়া করতে বাধা দেন।  এরপর রাশেদ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার চাচা বাছির মেম্বারের নেতৃত্বে টাকা পাওনাদার মিন্টুর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিতে হামলা করে। এ ঘটনা পরে সালিশ করে আপস-মীমাংসা করা হয়। আপস মীমাংসা করা হলেও মিন্টুর বাড়ির লোকজনকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ইউপি সদস্য বাছির ও তার ভাতিজা রাশেদের লোকজন। 

এরই জেরে ঈদের দুইদিন আগে ইউপি সদস্য বাছির দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিন্টুর বাড়িতে হামলা করতে। এই খবর পেয়ে পুলিশ বাছির মেম্বারের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর একদিন পর পুলিশ মিন্টুর ভাই মুদি মালের দোকানদার নূরুকে আটক করে নিয়ে যায়। 

দোকানদার নুরু জেলে থাকা অবস্থায় ঈদুল ফিতরের মধ্যরাতে তার দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পুড়ে যায় তার দোকান। নূরু ও মিন্টুর পরিবারের সদস্যদের দাবি, দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারসহ প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। 

মিন্টু ও নুরুর মা দাবি করে বলেন, দোকানে অগ্নিসংযোগ করেছে বাছির মেম্বারের বাড়ির লোকজন। আমরা আতঙ্কে আছি। ঘর থেকে বের হলেই তাদের হামলার আশঙ্কায় থাকি। 

তাসলিমা বেগম নামে এক নারী বলেন, মিন্টুরা হচ্ছে আমার মামার বাড়ির। আমার ছেলের নাম নূরুল ইসলাম। সে নাকি মিন্টুদের পক্ষ নিয়েছে, তাই স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির আহম্মদ নামে এক দারোগা টাকা খেয়ে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে মামলায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেই দারোগাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি আমাকে মারতে তেড়ে আসেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

আউলিয়া বাজার ফাঁড়ির এএসআই আহমদ বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন।

বিজয়নগর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একপক্ষ মামলা দেয়ায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় একপক্ষের চারজন ও অপর পক্ষের দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ