Alexa পাঁচ বছর বয়সেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয়

পাঁচ বছর বয়সেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয়

নুর উদ্দিন রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০২ ৩১ আগস্ট ২০১৯  

তাজিংডং চূড়ায় তেহজিব

তাজিংডং চূড়ায় তেহজিব

তেহজিবের বয়স মাত্র পাঁচ বছর চার মাস। অবাক করা বিষয়, এরমধ্যেই এই শিশু পায়ে হেঁটে জয় করেছে তাজিংডং। সরকারিভাবে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এত কম বয়সে তাজিংডং জয়, শুধুই নিছক ঘটনা নয়! এ এক অফুরাণ প্রাণ শক্তির অঙ্কুরোদগম।

সকাল ৯টা। আমরা পৌঁছে গেলাম থানচিতে। সবাই চাঁদের গাড়ি থেকে নামছে, হঠাৎ চোখে পড়লো এক শিশুকে। দেখে শুধু অবাকই হলাম না চিন্তিত হয়ে পড়লাম! তার মা-বাবাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চেয়েও বাকি টিম মেম্বারদের খোঁজ নিতে গিয়ে আর জিজ্ঞেস করা হলো না। ভাবলাম একে কোলে করে নিয়েই অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

কিন্তু খুব বেশি সময় নেয় নি সে আমাকে ভুল প্রমাণিত করার জন্য। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবেই শুরু করলো হাঁটা। পেছনে তেহজিবের বাবা-মাও রয়েছে। কিছু দূর হাঁটছে আবার ঘুরে ঘুরে দেখছে পেছনে তার বাবা-মা ঠিক আছে কি-না। ঘণ্টা দেড়েক পরও খেয়াল করে দেখলাম শুরুতে যেভাবে হাঁটছিল ঠিক একই গতিতে হেঁটে চলেছে মেয়েটা। আমরা সবাই অবাক! অনেকেই যখন হাঁটতে পারছিল না কিংবা হাল ছেড়ে দেয়ার মতো অবস্থা তখন তেহজিবই হয়ে উঠলো তাদের একমাত্র অনুপ্রেরণা।

তেজিংডং-এর পথে তেহজিব

তেহজিবের পাশে পাশেই হাঁটছিলাম আমি। কিছু কিছু জায়গায় অনেক দুর্গম ছিল, তাই সাহায্য করার কথা ভেবে তেহজিব এর হাত ধরতে চাইলাম। কিন্তু চেহারা দেখেই বুজলাম সে খুব বিরক্ত। যাকে কি-না কোলে করে নিয়ে ট্রেকিং করতে হবে চিন্তা করে ছিলাম সে হাত ধরাতেই বিরক্ত!

একসময় শেরকর পাড়ায় পৌঁছে গেলাম সবাই। ততক্ষণে আমার বোঝা হয়ে গেছে আমি কতখানি ভুল ছিলাম। পাড়ায় পৌঁছে সবাই তেহজিবকে নিয়ে ছবি তুলা শুরু করলাম। সন্ধ্যা গড়িয়ে এল, সবাই যার যার মতো বিশ্রাম নিয়ে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে রাতের খাবার খেতে বসলাম। রাতের খাবার সেরে আবার চায়ের দোকানে আড্ডা। পরের দিন খুব সকালে উঠতে হবে তাজিংডং সামিট করার জন্য, তাই কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়েছে এরই মাঝে।

পরদিন সকালে সবার মতো তেহজিবও ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। সবাই মিলে কিছুক্ষণ ছবি তুলে শুরু করলাম হাঁটা। তেহজিব যখন পাহাড়ি পথে উঠতে উঠতে ঘেমে যাচ্ছিল সে নিজেই গামছা দিয়ে মুখ মুছতে লাগলো। বিশ্বাস করুন, তখনো তার মুখে হাসি! ক্লান্তির ছাপ নেই খানিকটাও।

তাজিংডং ওঠার সময় একদম খাঁড়া একটি পথ বাঁশের সাহায্য উঠতে হয়, যা দেখে অনেকেই ভয় পেয়েছিল। সেই জায়গাটিও তেহজিব উঠে যায়! অবশেষে তেহজিব উঠে গেলো তাজিংডং-এর চূড়ায়। আমরা সবাই তেহজিবকে হাত তালি দিয়ে অভিনন্দন জানাই। আধঘন্টা ধরে তেহজিবকে নিয়ে ছবি তুললো সবাই। তেহজিব হাসিমুখে আমাদের এই অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছিল। ছবি তোলা শেষে সবাই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার রওনা হলাম শেরকর পাড়ার উদ্দেশ্যে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে