Alexa পাঁচমাস পর স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য উদঘাটন

পাঁচমাস পর স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য উদঘাটন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১১ ১৯ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ত্রিশালের হরিরামপুর সাউথকান্দা আরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্র খুন হয়। খুন হওয়ার পাঁচমাস পর ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই সূত্রানুযায়ী, ৩ মে সকালে ত্রিশালের আমিরাবাড়ী ইউপির কুর্সানগর খিরো নদীর পাড়ে আছাদুজ্জামানের বাঁশ বাগান থেকে আবু তাহেরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আবু তাহেরের বাবা নজরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় ৩০জুন মামলা করেন। 

ত্রিশাল থানা পুলিশ তদন্তাবস্থায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পিবিআই ময়মনসিংহ মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহণ করে। পিবিআই এর অতিরিক্ত এসপি আবু বকর সিদ্দিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর সালাহ উদ্দিন আহমেদ তদন্তকালে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকায় একজনকে আটক করেন। আটক মো. ফরিদ খান ওই গ্রামের মো. শহীদুল ইসলামের ছেলে। তাকে বৃহস্পতিবার টঙ্গী থেকে আটক করা হয়। 

জড়িত আসামী ফরিদ বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেকে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে অন্যান্য সহযোগী আসামীদের নাম উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফরিদ জানায়, তার সহপাঠী ও কিছু বখাটে ছেলে একজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় আবু তাহের প্রতিবাদ করে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিকট মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য অভিযোগ করে। এর জেরে তারা আবু তাহেরকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। 

ফরিদ আরো জানায়, কুর্শ্বানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খিরো নদীর পাড়ে ২৪ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে ডাব খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর আটজন মিলে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে তার মরদেহ বাঁশ ঝাড়ের নিচে লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখে। 

তাহেরের বাবা নজরুল ইসলাম আবেগ জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আর যেন কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। 

পরে তিনি এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করাই ময়মনসিংহ পিবিআই-এর অতিরিক্ত এসপি আবু বকর সিদ্দিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। 

ময়মনসিংহ পিবিআই এর অতিরিক্ত এসপি আবু বকর সিদ্দিক জানান, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ইভটিজারদের হাতে শিক্ষার্থীকে প্রাণ দিতে হলো। আর যেন কোনো শিক্ষার্থী এরূপ নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্বীকার না হয় সেজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস