পল্লী নিবাস দখলে সাদ-মোস্তফার বিরোধ চরমে

পল্লী নিবাস দখলে সাদ-মোস্তফার বিরোধ চরমে

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৯ ৫ জুন ২০২০   আপডেট: ১৭:১৮ ৫ জুন ২০২০

গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের পল্লী নিবাস কার হাতে থাকবে? এই নিবাস নিয়ন্ত্রণ করবে কে? এরশাদপুত্র রংপুর-৩ আসনের এমপি সাদ এরশাদ নাকি রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এ নিয়ে দুজনের বিরোধ এখন চরমে।

তবে স্থানীয় বেশিরভাগ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছেন মেয়রের পক্ষেই। জেলা কমিটির কিছু কিছু নেতা সাদ এরশাদের পক্ষ নিলেও তারা গোপনে তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আর এতে করে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে মেয়র মোস্তফার সমর্থকরা জানিয়েছেন সাদ এরশাদ জাপা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা বলছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। শিগগিরই এর মিমাংসা হবে।

সাদ এরশাদ রংপুরে এলে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড়ে মুখর থাকতো পল্লী নিবাস। গত মঙ্গলবার রাতে এমপি সাদ এরশাদ তার স্ত্রী মাহিমা সাদকে লাঞ্ছিত, গাড়ি ও বাড়ির বৈঠকখানার চেয়ার টেবিল ভাঙচুরের অভিযোগে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানকে আটক করে পুলিশ। এ আটকের পর ফের প্রকাশ্যে আসে রংপুরে জাতীয় পার্টির গ্রুপিং।

টিপু সুলতানকে পুলিশে দেয়ার প্রতিবাদে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পল্লী নিবাস ঘেরাও করে টিপুর মুক্তির দাবিতে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। আর এতে নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন সাদ এরশাদ।

বুধবার দুপুরে সাদ এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, পল্লী নিবাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েকজন নেতার ইন্ধন রয়েছে।

সাদ এরশাদ জানান, আপনি ভালো কাজ করলে বাধা আসবে, এ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। তবে মেয়রের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন সাদ এরশাদ। এটা কোনো চাপ না। এটা আমার কাছে এক ধরনের শিক্ষা। আমি ভালো কাজ করছি বলে কেউ হয়তো সুবিধা করতে না পেরে কাউকে দিয়ে এই কাজ করে থাকতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, করোনাভাইরাসের সময় সাদ এরশাদ কোনো ভায়া না হয়ে তিনি নিজেই তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ১২ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এই নিয়ে স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে তার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত মঙ্গলবার রাতে।

রংপুর মহাগনগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসীর জানান, রংপুরে জাতীয় পার্টির কোনো গ্রুপিং নেই। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়েছে। শিগগিরই এর সমাধান হবে। এ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী ও দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এআর