Alexa পর্যাপ্ত মজুরির কাজ পাচ্ছেন না প্রায় ৪৭ কোটি মানুষ: আইএলও

পর্যাপ্ত মজুরির কাজ পাচ্ছেন না প্রায় ৪৭ কোটি মানুষ: আইএলও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৩ ২১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৫ ২১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির এখন অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব। বর্তমানে চাকরির বাজারে ব্যাপক মন্দা দেখা দেয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যও বেড়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে সুইজারল্যান্ডের অবকাশ কেন্দ্র দাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশাল আউটলুক: ট্রেন্ড ২০২০’ এক নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)।

আইএলও হলো একটি জাতিসংঘের এজেন্সি। যার কাজ হলো আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মান নির্ধারণ করে সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং শালীন কাজের প্রচার করা।

সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ আশানুরূপ মজুরির কাজ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করছেন। জীবিকার তাগিদে প্রত্যাশার চেয়েও কম মজুরির কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে অনেকেই। ফলে বাড়ছে ব্যক্তি পর্যায়ের দারিদ্র্য ও বৈষম্য।

আইএলও’র পূর্বাভাসের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বেকারত্বের তালিকায় যাবেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় বছরে বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় নতুন করে যারা শ্রমবাজারের জন্য তৈরি হচ্ছেন তাদের জন্য পর্যাপ্ত চাকরি থাকবে না।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জন্য কাজের মাধ্যমে একটু ভালো জীবন পাওয়াটা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য ও চাকরিহীনতার কারণেই এসব মানুষ একটি মানসম্মত কাজ ও ভালো একটি ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আইএলও বলছে, বর্তমানে বিশ্বে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৫৭০ কোটি। এরমধ্যে ১৮ কোটি ৮০ লাখ বেকারের পাশাপাশি ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চাকরি করলেও চাহিদা মেটানোর মতো বেতনের কাজ পাচ্ছেন না। এছাড়া আরো ১১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ হয় চাকরি খোঁজা বাদ দিয়েছেন না হয় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না। এসবের সঙ্গে সরাসরি বেকার মানুষ যুক্ত হয়ে বিশ্বের মোট ৪৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান সংকটে ভুগছে।

তবে জানুয়ারির প্রথম দিকে জাতিসংঘের অর্থনীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, উন্নত দেশগুলোতে আগের চেয়ে আয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। ২০০৪ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী জাতীয় আয়ে শ্রমখাতের অংশীদারিত্বও ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৫১ শতাংশে নেমেছে। ইউরোপ, মধ্য এশিয়া ও যুক্তরাষ্টে এই চিত্র দৃশ্যমান। কিন্তু আফ্রিকার কয়েকটি দেশ স্থবির হয়ে পড়েছে।

আইএলওয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২০-২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মাঝারি বা চরম কর্মক্ষম দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাবে। তবে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও মানসম্মত চাকরিতে পুরুষ ও নারীর সংখ্যার ব্যবধান নিয়ন্ত্রণ করা গেলেই কেবল টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ