Alexa পরিবার থেকে জুটেছে শুধুই লাঞ্ছনা, স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন বৃদ্ধার

পরিবার থেকে জুটেছে শুধুই লাঞ্ছনা, স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন বৃদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৩৫ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

৯০ বছরের এক বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। বৃদ্ধার সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার পরে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা এমন ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন ৯০ বছরের তারারাণী ডগর।

ভারতের কাকদ্বীপের নারায়ণপুরের শাসক শৌভিক চট্টোপাধ্যায়ের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন তারারাণী। এই আবেদন পেয়ে খোদ শৌভিক কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি দ্রুত ওই বৃদ্ধার আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

বৃহস্পতিবার মহকুমা শাসকের অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৃদ্ধার আত্মীয়দের। মহকুমা শাসক শৌভিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, আবেদন পেয়েছি। পরিবারের লোকেদের আসতে বলেছি।

তারারাণী ডগরের স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন

দীর্ঘদিন আগে তারারাণীর স্বামী মারা যান। বৃদ্ধার মেয়ে সুদেষ্ণা ও তার স্বামী তপন মাইতি। তপন পেশায় কাকদ্বীপ আদালতের আইনজীবী। বৃদ্ধার অভিযোগ, নাতনি ও নাতজামাই মিলে তার সমস্ত সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে।

কাকদ্বীপের গনেশনগর এলাকায় বৃদ্ধার জমিতে বাড়ি করেছেন তারা। সেই বাড়ি তৈরীও করেছেন বৃদ্ধার টাকায়। বৃদ্ধাকে বাড়িতে থাকতে না দিয়ে তাকে একটি গোয়ালঘরে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। এছাড়া বৃদ্ধা জমি বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা পোস্ট অফিসে মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে রেখেছিলেন। সেই টাকা ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন তপন। 

তারপর দিনের পর দিন নিয়মিত খেতে দেয়া হয়না বলে অভিযোগ। এমনকী, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন নাতনি ও নাতজামাইও। প্রতিবাদ করলে জোটে মারধর। এখন প্রতিবেশীদের থেকে চেয়েচিন্তে চলছে তার দিন। এই অবস্থায় তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন।

৯০ বছর বয়সী তারারাণী এদিন মহকুমা শাসকের অফিস থেকে বেরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমি আর বাঁচতে চাইনা। তাই আবেদন করতে এসেছি। আমার সম্পত্তি সব হাতিয়ে নিতে চাইছে। আমাকে খেতেও দেয়না। এর থেকে মৃত্যু ভাল।

‌এই ঘটনার পর বৃদ্ধার নাতজামাই তপন মাইতি বলেন, দিদিমা আমাদের কাছেই থাকেন। আজ সকালেও একসঙ্গে চা খেয়েছি। পরে উনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। মানসিক ভারসম্য হারিয়েছেন। এক আত্মীয়ের প্ররোচনায় উনি এই অভিযোগ  করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস