পরিবারের সবাইকে কষ্ট দিতে মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করলেন মা

পরিবারের সবাইকে কষ্ট দিতে মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করলেন মা

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:২৭ ৩০ মার্চ ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর ছয় বছরের শিশু সুমাইয়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তাকে তার মা পারিবারের সবাইকে কষ্ট দিতে গলা টিপে হত্যা করেছেন।

শিশু সুমাইয়ার মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন।

সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, সুমাইয়ার মা তামান্না পারভিন তার মেয়েকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশকে। মামলা করার পর তাকে রোববার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, তামান্না পারভিন ২০১২ সালে যখন বয়স ১৫ বছর ছুঁই ছুঁই তখন তার বিয়ে হয় সিরাজুল ইসলাম নামে এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে। বিয়ের এক বছরের মাথায় জন্ম হয় শিশু সুমাইয়ার। কিছুদিনের মধ্যেই সিরাজুল ইসলাম তামান্নার মতে পুনরায় আবার সৌদিতে চলে যায়। যখন তামান্নার খেলার বয়স তখন সে এক মেয়ে সন্তানের মা স্বামী থাকে বিদেশে। এভাবে জীবনে চলতে গিয়ে তার জীবনের প্রতি অনীহা চলে আসে। বাবার বাড়িতে থাকলে বাবা মায়ের অনাদর অন্যদিকে শ্বশুরবাড়িতে থাকলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অসহযোগিতায় সে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে।

কষ্টের কথা কাউকে শেয়ার করতে না পেরে এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়। সে সবার আদরের সুমাইয়া আক্তারকে হত্যা করে তার পরিবারের সব সদস্যকে কষ্ট দেয়ার পরিকল্পনা করে। গত ২৭ মার্চ রাতে খাবার শেষে মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে রাত ১০টার দিকে। এরপর নিজ হাতে গলা টিপে তামান্না তার নিজ মেয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। 

পরেরদিন সুমাইয়ার চাচা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করলে নওগাঁ  সদর মডেল থানা পুলিশ ওইদিনই তামান্নাকে ধামইরহাট উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ