Alexa পরিবর্তনের পথ তৈরি করে যেতে চাই: শোভন

পরিবর্তনের পথ তৈরি করে যেতে চাই: শোভন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১৫ ৯ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২০:৪৯ ৯ মার্চ ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ আয়োজিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগ' সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ছাত্রলীগের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমসহ নানা বিষয় নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ মনোনীত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মেহেদী হাসান শান্ত, সাথে ছিলেন সালমান আহসান নাঈম

ডেইলি বাংলাদেশ: গত ২৮ বছরে যে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, আপনাদের আগ্রহে সেই নির্বাচন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে, এ অর্জনটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন: আমরা সব সময়ই চেয়েছি ডাকসু নির্বাচন হোক।  ডাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অধিকার। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রথম বর্ষে একজন ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, হলে সিট সংকটসহ নানাবিধ কারণে সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে থাকে। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তারা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এমনকি পড়াশোনার জন্য রিডিং রুমের অপ্রতুলতাও বেশ লক্ষণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছাত্র সংখ্যার মাত্র ৬ শতাংশের চাহিদা পূরণে সক্ষম রিডিং রুমগুলো। এসব কারণে পড়াশোনা বা মেধার যথাযথ বিকাশ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। শিক্ষকদের উদাসীনতাও এক্ষেত্রে লক্ষণীয়। এজন্য আমরা সব সময় ডাকসু নির্বাচন চেয়েছি। ছাত্রলীগ তার দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সমর্থন দিয়ে গেছে। আমরা চেয়েছি একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য সব ছাত্র সংগঠনের সাথে ডাকসুর দাবিতে আমরা সহমত প্রকাশ করেছি। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো যাতে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে ও নির্বাচনে নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আমরা তাগিদ দিয়েছি। তাই ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যে এই আন্দোলন, তার সাথে শামিল হতে পারাটা ছাত্রলীগের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন।  

ডেইলি বাংলাদেশ: নির্বাচনে ছাত্রলীগের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন: আমি বিশ্বাস করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা অবশ্যই ছাত্রলীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধিকার আদায়ের সব আন্দোলনে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছে, ঠিক যেমন রেখেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাই চেতনাগত দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একে অন্যের পরিপূরক বলে আমি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি দাওয়া রয়েছে, তা পালনের মাধ্যমে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মানের ক্ষমতা রাখেন একমাত্র আমাদের অভিভাবক দেশনেত্রী শেখ হাসিনা। সেই মাননীয় প্রধানন্ত্রীর স্নেহের ছত্রছায়ায় রয়েছে যেই সংগঠন, তারা ছাড়া শিক্ষার্থীদের চাওয়া পাওয়া আর কোন সংগঠন ভালোভাবে মেটাতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেটানোর সক্ষমতা শুধুমাত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগেরই রয়েছে। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগকে ভোট না দেয়ার কোনো কারণ দেখছি না।

ডেইলি বাংলাদেশ: আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন: ডাকসু একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। তারপরও রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী প্রার্থীদের বিভিন্ন দল সমর্থন দিয়ে থাকে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার কাজে নিয়োজিত শিক্ষক ও প্রশাসকবৃন্দের। আমি আশা করব তারা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনটি আয়োজন করবেন। সেই সাথে আমরা যেসব ছাত্র সংগঠন এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, তাদেরও দায়িত্ব এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে সহায়তা করা।

ডেইলি বাংলাদেশ: ডাকসু হওয়ার পর ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগের ভূমিকা কি হবে?

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব বা যাই বলেন না কেন, সেটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নয়। সবাই মিলেই তো একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তাই এ দায়িত্ব সবার। হ্যাঁ এটা ঠিক, যে সংগঠনের জনপ্রিয়তা বেশি তাদের নিয়ে আলাপ আলোচনা বেশি হবেই। তার মানে এই নয় যে অন্য দলগুলোর কথা বলার অধিকার নেই। অন্য দলগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন, তারা অনেকে হল পর্যায়ে প্রার্থীই দিতে পারেনি। সুতরাং তাদের নিজেদের সংগঠনের প্রতি উদাসীনতার দায়ভার ছাত্রলীগ কেন নেবে? আমরা তো কাউকে কথা বলতে প্রচার প্রচারণা চালাতে বাধা দিচ্ছি না। ডাকসুর পরেও যদি তারা ক্যাম্পাসে এভাবে অবাধ চলাফেরা করতে চায়, তা তারা করবে। অন্য দলগুলো যদি না আসে, কার্যক্রম না চালায়, সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়, আর তার জন্য যদি আপনারা ছাত্রলীগকে দোষারোপ করেন, তবে সেটি ভুল হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ: নির্বাচনে জয়ী হলে হলের আবাসন সংকট সমাধানসহ আরো যেসব আশ্বাস আপনারা দিয়েছেন সেগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন: দেখুন, নির্বাচনে জয়ী হলেও আমাদের হাতে সময় থাকবে কিন্তু মাত্র এক বছর। এই এক বছরে সব কিছু রাতারাতি বদলে দেবো, এ কথা বলা অবশ্যই ঠিক হবে না। তবে আমি খুব জোর দিয়ে বলতে পারি, নির্বাচনে জয় পেলে আমরা পরিবর্তনের পথটা রচনা করে দিয়ে যাবো। এই পথ ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের অধিকারগুলো ফিরে পাবে- এটাই আমার বিশ্বাস।      

ডেইলি বাংলাদেশ/এস