পরকীয়া প্রেমিককে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো প্রেমিকা

পরকীয়া প্রেমিককে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো প্রেমিকা

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৫ ১১ মার্চ ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশে পরকীয়ার জেরে প্রেমিক আল কাইয়ুম নিপুণকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন প্রেমিকা জেসমিন আক্তার সুমি। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমি এ বর্ণনা দিয়েছেন।

সুমি জানান, পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে কাইয়ূমকে অচেতন করে পরে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহটি বস্তাবন্দি করে বাড়ির সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাশ থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ূন কবির জানান, ২০১২ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিহত কাইয়ূমের সঙ্গে পরিচয় ঘটে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগ্যের পাড়া গ্রামের মোকারমের স্ত্রী জেসমিন আক্তার সুমির। এরপর তারা পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরকীয়া সম্পর্ক চলাকালীন নিহত কাইয়ূম তার মোবাইলে তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে রাখে। সেই ভিডিও পরিবারকে দেখানো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৬ মাস ধরে জেসমিন আক্তার সুমির কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেওয়া শুরু করে প্রেমিক কাইয়ুম। তারই ধারাবাহিকতায় শারীরিক সম্পর্ক করা ও টাকা আদায় করতে গত ৩ মার্চ রাতে সুমির বাড়িতে যায় কাইয়ূম। এসময় সুমি তাকে হত্যা করেন।

কাইয়ুম নিখোঁজের ঘটনায় তার ছোট ভাই গত ৪ মার্চ নরসিংদী মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে মোবাইলের কললিস্ট বের করে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রেমিকা সুমির মোবাইল নম্বরের একাধিক যোগসূত্র পায়। পরে সুমিকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া তথ্যমতে সোমবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বে পলাশ থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন ও নরসিংদী মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামানসহ পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সুমির স্বামী মোকারমের বাড়ির সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহত কাইয়ূমের বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস