পদ্মা-মেঘনায় জাল ফেলা যাবে না দুই মাস

পদ্মা-মেঘনায় জাল ফেলা যাবে না দুই মাস

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫১ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৪ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

১ মার্চ থেকে চাঁদপুরে শুরু হচ্ছে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে ‘অভয়াশ্রম কর্মসূচি’। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এ দু’মাস পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় কোনো প্রকার জাল ফেলা যাবে না। ফলে বন্ধ থাকবে সব ধরনের মাছ নিধন, বিক্রি ও বিপণন। 

ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণে গত ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের ৫টি অঞ্চলে এ কর্মসূচি চলে আসছে। এ নির্দিষ্ট সময়ে কেউ মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে জেল জরিমানার বিধান করেছে সরকার। 

এদিকে এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এ বছর প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান।  

তিনি বলেন, সব নদ-নদীতে ইলিশের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে পারলে আমরা কাঙ্খিত সফলতা পাব। গত বছর ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। আশা করছি, এ বছর যদি সম্মিলিত ভাবে সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি তাহলে ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পদ্মায় ভাসছে বিভিন্ন ধরনের ট্রলার

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এরইমধ্যে চাঁদপুরের নদীতীরবর্তী এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিং করা হয়েছে। দুই মাসের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ডিসি কার্যালয়ে টাস্কফোর্স কমিটির বিশেষ সভা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যায়ক্রমে ২৪ ঘণ্টা নদীতে অভিযান চালানোর জন্য ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, চাঁদপুরে সরকারি তালিকাভুক্ত ৫১ হাজার ১৯০ জন জেলে রয়েছে। অভয়াশ্রম কর্মসূচি সফল করতে এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাস তালিকাভুক্ত প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। এরপরও যদি কেউ নদীতে মাছ ধরে তাহলে ছয় মাস হতে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। 

মাছ ধরায় ব্যস্ত জেলেরা

এদিকে দু’মাস মাছ ধরা বন্ধ প্রসঙ্গে চাঁদপুরের বহরিয়া, জাফরাবাদ, আনন্দবাজার ও হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে মোস্তফা, রুবেল, সুলতান, অলি আহমেদ ও মুনসুর জানায়, আমরাও চাই সরকারি সিদ্ধান্ত শতভাগ পালন করতে। ৪০ কেজি চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না, তাইতো জীবনের মায়া না করে, ছেলে-মেয়েদের দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগাতে অনেকে নদীতে নেমে পড়ে। 

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মৎস্য ও বণিক সমিতির সেক্রেটারি মো. শবেবরাত বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই অভয়াশ্রম মৌসুম সফল করতে আমাদের শতভাগ সহযোগীতা থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে