পকেট কমিটিতে বিপর্যস্ত নরসিংদী সদর বিএনপি

পকেট কমিটিতে বিপর্যস্ত নরসিংদী সদর বিএনপি

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৮ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৩:০০ ৮ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নরসিংদী-১ (সদর) আসনে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে বিএনপি। অযোগ্য নেতৃত্বের প্রভাব ও পকেট কমিটির কারণে দলটি এখানে নাম সর্বস্ব অস্তিত্ব নিয়ে কোনো রকমে টিকে আছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এমন দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা বলেন, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছিল শুধু অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে। সদরবাসী যখন দেখল অযোগ্য ও সন্ত্রাসীরা ভোট প্রার্থনায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছে, আর এতেই নির্বাচনের ফলাফলে বিষয়টি বুমেরাং হিসেবে কাজ করে। অথচ ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। 

তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জানান, শুধু পকেট কমিটির ছড়াছড়ির কারণে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে তাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। এরপর থেকে এখানে দলটির সাংগঠনিক ভিত ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে দলের অবস্থা আরো নাজুক। 

কর্মীদের অভিযোগ, পদে থাকা অধিকাংশ নেতা দায় সারা কার্যক্রমের ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েই শুধু দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যে কারণে দলটি দিনে দিনে কর্মীশূন্য হয়ে পড়ছে।   

এ প্রসঙ্গে একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এ আসনের মূল নেতৃত্বে থাকলেও দলের এমন বেহাল অবস্থায় তিনি কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছেন না। কেন্দ্রীয়ভাবে তিনি বড় নেতা হলেও স্থানীয় বলয়ের একটি চক্রের কাছে জিম্মি। ওই চক্রের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। যে কারণে যতই দিন যাচ্ছে সাংগঠনিক অবস্থান ততই দুর্বল হচ্ছে। কার্যক্রম নিয়ে দলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী জেলখানা মোড় থেকে যেন কোনোক্রমেই বের হতে পারছে না। অথচ এক সময় দলটি ছোটখাটো কর্মসূচিও শহরজুড়ে পালন করতো। আজ দলটি শহরের একটি অংশে ঠাঁই নিয়েছে। 

অধিকাংশ নেতাকর্মীর অভিযোগ, ২০০৬ সালের পর থেকে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে শুধু পকেট কমিটি করে দলের এমন বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে। ছাত্রদল থেকে শুরু করে দলের প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটিতে একই ধারাবাহিকতা চলে আসছে। এতে দলটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা।

সম্প্রতি গঠিত হওয়া জেলা যুবদলের কমিটি নিয়েও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিযোগের অন্ত নেই। সন্ত্রাস নির্ভর লোকদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অধিকাংশের অভিযোগ রয়েছে। 

দলটির অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা বলেন, শ্রমিকদল, কৃষকদল ও মৎস্যজীবী দল থেকে প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনে পকেট কমিটি করায় ত্যাগী নেতা-কর্মীরা নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়েছেন। অনেকে রাগে-অভিমানে দলীয় কর্মকাণ্ডে আগের মতো সক্রিয় নন। সেই সঙ্গে তাদের কর্মী ও সমর্থকরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। দলীয় কোনো কর্মসূচি থাকলে এখন কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন বলেন, কমিটি হয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোর অনুমোদন দেয়। নেতা-কর্মীদের সংখ্যা একাধিক হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই। নেতৃত্বেরও পরিবর্তন আসবে। কমিটিতে যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের ক্ষোভ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন