নয় লাখ টাকার স্ট্যাম্প ডকুমেন্ট গায়েব করলেন সেই ওসি   

নয় লাখ টাকার স্ট্যাম্প ডকুমেন্ট গায়েব করলেন সেই ওসি   

লালমনিরহাট প্রতিনিধি    ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪২ ১৪ আগস্ট ২০২০  

মাহফুজ আলম

মাহফুজ আলম

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে এবার মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে সাড়ে ৯ লাখ টাকার ডকুমেন্টের স্ট্যাম্প গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে হাত স্যানিটাইজ করে ঘুষের টাকা গ্রহণের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়।   

শুক্রবার দুপুরে পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা ডেইলি বাংলাদেশকে সাড়ে ৯ লাখ টাকার ডকুমেন্টের স্ট্যাম্প গায়েব করার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শাহানাজ বেগম নামে এক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী শাহানাজ বেগম লালমনিরহাট শহরের বিডিআরগেট খোচাবাড়ি এলাকার নবীয়ার হোসেনের স্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজাহান আলীর (সনদ নং ১৮৩০১৬) মেয়ে। তিনি  লালমনিরহাট রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের রানিং বেয়ারা পদের একজন কর্মচারী।

এর আগে লালমনিরহাট সদর থানা ওসি মাহফুজ আলম নিজ অফিস কক্ষে বসে হাত স্যানিটাইজ করে ঘুষ গ্রহনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে ভিডিওসহ সংবাদ ফলাও করে প্রকাশ হয়। ফলে ওসি'র বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন ভুক্তভোগীরা। এমনই একজন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে শাহানাজ বেগম বিচার চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা গেছে, রেলওয়েতে চাকুরীর সুবাদে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের বাহাদুরাবাদ ঘাটের লস্কার তৈয়াবুর রহমান টিপুর। এরই সুবাদে তৈয়াবুর রহমান টিপু শাহানাজের ছেলে সোহানুর রহমান মিমকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকুরি দেয়ার কথা বলে কয়েক দফায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা গ্রহন করেন। টাকার প্রমাণ হিসেবে গত ২০১৫ সালের ১০ মে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করেন তৈয়াবুর রহমান টিপু। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চাকুরী দিতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তৈয়াবুর রহমান। সেই টাকা আজ কাল বলে কালবিলম্ব করায় মামলার প্রস্তুতি নেন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে শাহানাজ বেগম।

বিষয়টি বুঝতে পেয়ে চাকুরিদাতা তৈয়াবুর রহমান সদর থানা ওসি মাহফুজ আলম ও সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে গত ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে শাহানাজের বাড়িতে আসেন। এ সময় আপোষ মিমাংসার কথা বলে সাড়ে ৯ লাখ টাকা প্রমানের চুক্তিনামার স্ট্যাম্পটি খোদ ওসি মাহফুজ আলম হাতিয়ে নেন এবং তার স্বামী ও ছেলেকে থানায় নিয়ে আসেন বলে ভুক্তভোগি শাহানাজের অভিযোগ। 

পরেরদিন শাহানাজের স্বামী ও ছেলেকে মামলায় জেলে পাঠানোর হুমকী দিয়ে আপোষ মিমাংসার কাগজে একটি এবং সাদা কাগজে একটি স্বাক্ষর নেন ওসি মাহফুজ আলম। এ বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে পুনরায় স্বামী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানোর হুমকী দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি শাহানাজ বেগম।

ওসি মাহফুজ আলমের হাতে থাকা সাড়ে ৯ লাখ টাকার চুক্তিপত্রের স্ট্যাম্প উদ্ধারপুর্বক চাকুরিদাতা প্রতারক তৈয়াবুর রহমানের কাছে পাওনা টাকা উদ্ধার করতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন শাহানাজ বেগম।

শাহানাজ বেগম বলেন, এক সঙ্গে চাকুরীর সুবাধে পরিচয় হলে তৈয়াবুর আমার ছেলেকে চাকুরি দিতে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নেন। তৈয়াবুরের মোটা অংকের টাকার জোড়ে ওসি মাহফুজ আমার বাড়িতে এসে ড্রয়ার ভেঙ্গে স্ট্যাম্পগুলোসহ ছেলে ও স্বামীকে ধরে নিয়ে যান। টাকা ছাড়াই আপোষের কাগজে স্বাক্ষর করে ছেলে ও স্বামীকে ছাড়িয়ে আনি। তাদেরকে ছাড়তেও ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। দীর্ঘ দিন পরে হলেও বর্তমান এসপি ভাল মানুষ তাই তার কাছে বিচার চেয়েছি।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ওসি মাহফুজ আলম এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে লালমনিরহাট এসপি আবিদা সুলতানা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, অভিযোগ তো সবেমাত্র পেলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ