নয় বছর পর শিশু ফয়সাল হত্যা মামলা সিআইডিতে 

নয় বছর পর শিশু ফয়সাল হত্যা মামলা সিআইডিতে 

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৭ ১২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২১:১৩ ১২ জুলাই ২০২০

ফয়সাল

ফয়সাল

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার শিশু ফয়সাল হত্যাকাণ্ডের নয় বছর পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলায় তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। এরইমধ্যে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

গত ২ জুলাই সিআইডির পৃথক অভিযানে জসীম মোল্যা ও তুজাম বিশ্বাস নামে দুইজনকে উপজেলার ডুমাইন গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

জানা গেছে, তুজাম বিশ্বাস একটি রাইস মিলের মালিক ছিলেন। শিশু ফয়সালের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার প্যান্টে লেগে থাকা কুড়া ও পোড়া মবিলের সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যার আগে তার রাইস মিলে নিয়ে ফয়সালকে নির্যাতন করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। 

জসীম মোল্যা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নাইট গার্ড ছিলেন। ফয়সালের মরদেহ উদ্ধারের পর সেও গা ঢাকা দেয়। 

২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে ডুমাইন মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সময় পাখি মারার কথা বলে দুর্বৃত্তরা ফয়সালকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। এরপর তার শরীর থেকে বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ কেটে নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের সেফটি ট্যাংকে মরদেহ গুম করে। 

মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুস সাত্তারের ছেলে ফয়সাল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলো। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ফয়সাল সবার ছোট। ফয়সাল নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবার করা জিডির সূত্র ধরে ওই বছরের ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার হয় প্রধান আসামি জাহাঙ্গির আলম পলাশ। তাকে দুইদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর ৩০ এপ্রিল গ্রেফতার হয় অপর আসামি মুরাদ বিশ্বাস। তাকেও দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। 

এরপর ১২ ও ১৩ মে তাদের দুইজনকে আবারো এক সঙ্গে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর ১৫ মে ফয়সালের মরদেহের সন্ধান মেলে। চার মাসের মধ্যে তদন্ত শেষে ওই বছরের ১০ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। 

ফয়সাল অপহরণ ও হত্যা মামলা তদন্তে শুরু থেকেই আপত্তি তুলে নিহতের পরিবার। আসামিদের রক্ষার জন্য তড়িঘড়ি করে চার্জশিট দেয়ারও অভিযোগ করে ফয়সালের পরিবার। 

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন তারা। ওই আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি জাহাঙ্গির হোসেন ও বিচারপতি মো. রেজাউদ্দিন খান সমন্বয়ে বেঞ্চ ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য ফরিদপুর সিআইডিকে নির্দেশ দেন।     

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই আদেশ পেয়ে ফরিদপুর সিআইডি মামলা তদন্ত শুরু করে। এরপর নতুন করে গ্রেফতার হয় দুইজন। 

মামলার বাদী ফয়সালের বাবা শেখ আব্দুস সাত্তার জানান, ফয়সাল হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার পলাশ ও মুরাদকে রিমান্ডে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলেও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান তিনি স্বপ্নযোগে লাশের সন্ধান জেনে ডোম নিয়ে এসেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও তিনি কিছু তথ্য গোপন করেন। গত ৭ জুলাই ওই তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডিতে আবেদন করা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, ফয়সালকে হত্যার পর কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি করে দেয় খুনিরা। পুলিশের তদন্তে তাদের নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসে। প্রথম যে দুইজন আসামি গ্রেফতার হন তারা এরই মধ্যে জামিনে বেরিয়ে কয়েকজন সাক্ষীকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। 

ফরিদপুরের সিআইডির এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এই মামলার তদন্তে নেমে দুইজনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আশা করি শিগগিরই অধিকতর তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবো। 

এ ব্যাপারে সিআইডির এসপি মাসুম বিল্লাহ তালুকদার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিআইডির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন করে মামলাটি তদন্ত করবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে