নেপালি ছাড়া সব শিক্ষার্থীই হাবিপ্রবিতে থাকতে চায়

নেপালি ছাড়া সব শিক্ষার্থীই হাবিপ্রবিতে থাকতে চায়

মিরাজুল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৩ ৯ মে ২০২০  

সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন

সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন

বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)। গত মার্চ মাস পর্যন্ত ১৫৪ বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হলের হল সুপার সহযোগী অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন।

তবে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের নেপালি শিক্ষার্থী আনিকেশ নায়েক বলেন, চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যেতে। এরইমধ্যে যে টাকা নেপাল থেকে এনেছিলাম তা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে আমার বিভাগের এক বন্ধুর কাছে ২০০০ টাকা ধার করেছি। জানি না এভাবে আর কতদিন চলবে। বাবা-মার আর্থিক অবস্থাও বর্তমানে অত্যান্ত নাজুক। তাই তারাও চাচ্ছেন যত দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে পারি।

নেপালি আরেক শিক্ষার্থী ব্রীজ কিশোর বলেন, এরইমধ্যে নেপাল সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত দূতাবাসে দেশে ফেরার জন্য ই-মেইল করেছি। অনলাইন আবেদন ফর্মও পূরণ করেছি। বাকি কাজ এখন প্রক্রিয়াধীন। তবে নেপালিরা বেশ আর্থিক সংকটে আছে। হল প্রশাসন চেষ্টা করছে খাবার ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আশা করি তারা আমাদের দুঃসময়ে আগামীতেও পাশে থাকবে। তবে আমাদের ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। কারণ ট্রানজেকশন সব জায়গায় হচ্ছে না।

এদিকে সোমালিয়ান শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আলি বলেন, আমরা সোমালিয়ান, নাইজেরিয়ান ও ইথিওপিয়ানরা বেশ ভালো আছি। আপাতত দেশে ফিরতে চাই না। খাওয়া-দাওয়া, টিভি দেখা, বিনোদন কিংবা ফুটবল খেলে সময় অতিবাহিত করছি। আপাতত আমাদের আর্থিক সমস্যা কিংবা খাবারের কোনো সমস্যা নেই।

আবার নিজ দেশে ফিরে কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের নেপালি শিক্ষার্থী সুপ্রিয়া খাদিওয়াদা বলেন, হাবিপ্রবি প্রশাসন যদি অনলাইনভিত্তিক লেখাপড়ার কার্যক্রম শুরু করে তবে আমরা জট কাটিয়ে উঠতে পারতাম। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ভেবে দেখবে।

ইন্টারন্যাশনাল হলের হল সুপার সহযোগী আধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, নেপালি শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে যতোটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব তা করবো। এরইমধ্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই দুর্যোগের সময়েও তাদের জন্য সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এবারো ঈদে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন হবে।

২৩ মার্চ হাবিপ্রবির বিদেশি ছাত্রীরা নিজ দেশে ফিরেছেন। তবে এই মূহূর্তে সোমালিয়ান ২০ শিক্ষার্থী, নাইজেরিয়ান ৭ শিক্ষার্থী ইথিওপিয়ান ১ শিক্ষার্থী ও নেপালি ১৪ শিক্ষার্থী হাবিপ্রবিতে আছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম