Alexa নেটওয়ার্ক যন্ত্রণায় মোবাইল গ্রাহক

নেটওয়ার্ক যন্ত্রণায় মোবাইল গ্রাহক

সাইফুল ইসলাম শান্ত ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩০ ১৬ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৫ ১৬ আগস্ট ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়ে মোবাইলের নেটওয়ার্ক যন্ত্রণায় ভুগেছেন বেশির ভাগ গ্রাহক। কলড্রপ থেকে শুরু করে ঘরে নেটওয়ার্ক না থাকা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারও করতে পারেননি বেশিরভাগ গ্রাহক। এতে মোবাইল কোম্পানীগুলোর উপর বেশ চটেছেন ব্যবহারকারীরা।

গ্রাহকেরা জানান, কয়েক বছর আগেই ডিজিটাল যুগে পা রেখেছে বাংলাদেশ। আকাশে উঠছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বেড়েছে যোগাযোগ। টু-জি থেকে ফোরজি আসলেও মোবাইল সেবা যাকে বলে তার সামান্যটুকু গ্রামে পাওয়া যাচ্ছেনা।  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে ১৬ কোটি ১৭ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছে। আর ৯ কোটি ৬২ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক। যার মধ্যে ৯ কোটিই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এতো গ্রাহক পেলেও সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে অপারেটরগুলো।

শহরের মোবাইল গ্রাহকরা সহজেই ফোরজি সুবিধা পেলেও এমন সুযোগ সুবিধা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের গ্রাহকরা।

গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ দেশের অনেক স্থানে গ্রাহকের কাছে মোবাইল নেটওয়ার্ক যন্ত্রণার কারণ উঠে উঠেছে।

মোবাইল ঘরের মধ্যে রাখলে সারাদিন নেটওয়ার্ক থাকেনা। কোথাও কল করতে হলে আসতে হয় ঘরের বাহিরে খোলা আকাশের নিচে। তবুও শোনা যায় না কথা। আর ইন্টারনেট তো বলতে গেলে পাওয়াই যায় না, এমন অভিযোগ গ্রাহকদের।

শুধু ঈদ নয়, গ্রামের গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যায় থাকলেও মোবাইল অপারেটরগুলোর তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রহিম মোল্লা নামে এক গ্রাহক বলেন, ঈদের দিন বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলবো ভাবছিলাম কিন্তু সারাদিনও ঠিকমতো মোবাইলে নেটওয়ার্ক পায়নি। প্রধানমন্ত্রী শহরের পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নের ব্যাপক কাজ করছেন। ঘরে বসে ইন্টারনেটসহ নানা প্রযুক্তি যাতে গ্রামের মানুষ হাতের নাগালে পায় সে লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটরগুলোকে অনেক সুযোগ-সুবিধাও দিয়েছেন। কিন্তু অপারেটরগুলো সেভাবে কাজ করছে না।

সজিব রহমান নামে অন্য একজন গ্রাহক জানান, গ্রামীণফোন আর বাংলালিংকের নেটওয়ার্কের অবস্থা বেশি খারাপ। কোথাও ফোন করতে হলে বাড়ির বাহিরে গিয়ে কথা বলতে হয়। তাও একবার নয়, কয়েকবার ডায়াল করার পর রিং হয়। এরপর আবার ভাল ভাবে কথাও শোনা যায়না।

গ্রাহকদের অভিযোগ- ফোরজি তো দূরের কথা মোবাইল ব্যবহার করাই বিরক্তিকর হয়েছে উঠেছে। কোথাও কোথাও ফোরজি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে ২জি দেখাচ্ছে। থ্রিজিও পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ নেটওয়ার্কও ফেল করছে।

বিটিআরসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কের অবস্থা খুবই খারাপ। অন্য অপারেটরদের কলেও হচ্ছে নানা ভোগান্তি।

গত বছরের ৬ থেকে ৮ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ১৫টি এলাকায় বিটিআরসি কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) পরীক্ষা চালায়। এতে যান্ত্রিকভাবে ৯০ সেকেন্ডের ৩ হাজার ৩০০টি কল করা হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রামীণফোনের কল ড্রপ হার ৩.৩৮ শতাংশ, রবির কল ড্রপ ১.৩৫ শতাংশ, বাংলালিংকের ০.৫৮ শতাংশ এবং টেলিটকের ১.৫৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গ্রামীণফোনে সংযোগের জন্য গড়ে ১০.১৪ সেকেন্ড সময় লেগেছে। পাশাপাশি রবিতে ৬.১৫ সেকেন্ড, বাংলালিংকে ৭.৬৯ সেকেন্ড ও টেলিটকে ৭.১১ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়েছে। যদিও ডায়াল করা নম্বরে সংযোগ পাওয়ার জন্য বিটিআরসির আদর্শ অপেক্ষার সময় ৭ সেকেন্ড।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এক অনুষ্ঠানে বলেন, মোবাইল সেবাদানের বিষয়ে অপারেটরগুলোর সঙ্গে আমরা কোনো ধরনের আপস করছি না। অপারেটরগুলোকে সেবার মান ভালো করতেই হবে। সেবার মান ভালো না করে ব্যবসায় টিকে থাকা যায়না।

ডেইলি বাংললাদেশ/এস