নেই সেই আনন্দ, হাসিমুখ ও কোলাকুলি

নেই সেই আনন্দ, হাসিমুখ ও কোলাকুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৫২ ২৫ মে ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সারাবিশ্বে আজ পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। তবে এবার ঈদে নেই আনন্দ, নেই হাসিমুখ-কোলাকুলি। প্রতিবছর ঈদের নামাজের পর হাসিমুখে কোলাকুলির দৃশ্য দেখা গেলেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে এবার সে চিত্র একেবারেই বিপরিত। কোলাকুলির পরিবর্তে মানুষকে আজ বজায় রাখতে হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব।

দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর খুশির ঈদ এলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা আজ নিরানন্দ হয়ে গেছে। ঈদের খুশির বদলে মানুষের মনে এখন বিরাজ করছে আতঙ্ক আর নানা শঙ্কা।

আতঙ্ক আর শঙ্কা নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অন্যবার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা কোথাও দেখা যায়নি।

গাজীপুরের টঙ্গীতে বায়তুল তোহা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করার পর রফিকুল ইসলাম নামের এক মুসল্লি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পৃথীবিতে এমন ঈদের দিন আসবে কোনোদিন ভাবিনি। রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু ঈদের সেই আমেজ আর নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এবার আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। কবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব তা একমাত্র আল্লাহই জানে।

সজিবুল ইসলাম নামের আরেক মুসল্লি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, অন্যবার ঈদের দিন বন্ধুরা মিলে কত আনন্দ হই-হুল্লোড় করে বেড়িয়েছি। কিন্তু এবার আর সেই আনন্দ নেই। একবন্ধু আরেক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে যাব তার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতির ঈদ খুশির বদলে বেদনা দিয়ে যাচ্ছে। এখন একমাত্র উপায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। 

তিনি বলেন, রোজার আগে ভেবেছিলাম রোজার ভেতর করোনার প্রকোপ শেষ হয়ে যাবে। ঈদের দিন নতুন পরিবেশে সবাই আনন্দ করব। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আনন্দের চেয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে আছি কখন কে যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি আমরা যেন দ্রুত এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ