নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন 

গণভবন থেকে বঙ্গভবন 

নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৩ ১৩ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৫:২৪ ১৩ এপ্রিল ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

যৌন নিপীড়নের বিচার চাওয়ায় আগুনে পুড়িয়ে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে বঙ্গভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত বিশাল মানববন্ধনে জানানো হয় নৃশংস এ হত্যার।

নগরীর রাজউক ভবন-দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, শাহবাগ, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি-কলাবাগান হয়ে আসাদগেট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল হাতে হাত ধরা মানুষের অবস্থান।

আসাদগেট এলাকায় প্রতিবাদী মানুষের সঙ্গে যোগ দেন কাফরুল থানা কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কাফরুল থানা, মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী মোহাম্মদপুর শাখা, ঘাসফড়িং, খেলাঘর আসর, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আনন্দদ্যুতি খেলাঘর আসর এর নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এটা শুধু সিপিবির কর্মসূচি নয়, দেশের সব মানুষের কর্মসূচি। দল মত নির্বিশেষে সবাই এতে অংশ নিয়ে দেশ থেকে নারী নির্যাতন দূর করবে।

তিনি বলেন, এটা কোনো বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়, সারা বছরই কম-বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এসব ধর্ষণের শিকার হয় মূলত শিশুরা। 

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও একই দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বাম ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী অধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন এনজিওর পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এগুলোর মধ্যে ছিল উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, ফেনী সমিতি ইত্যাদি। এতে অংশ নেয়া প্রতিবাদীরা দোষিদের ফাঁসির দাবি জানান।

গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর রাফির মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় গ্রেফতার সিরাজদ্দৌলা রিমান্ডে আছেন। 

গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এসময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর মারধর করা হচ্ছে, এমন সংবাদ দিলে রাফি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুবৃর্ত্তরা।

ঘটনার চারদিন পর গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে নুসরাত রাফির দাফন সম্পন্ন হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে