Alexa নুসরাত হত্যায় কার কী ভূমিকা

নুসরাত হত্যায় কার কী ভূমিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৩০ ২৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:২৫ ২৪ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি বছরের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা। গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। চারদিন যন্ত্রণা সহ্য করার পর ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরর পর ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ এ মামলায় ১৬ আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন।

এক নজরে ঘটনার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে যার যে ভূমিকা ছিল-

এস এম সিরাজ উদদৌলা

নুসরাতকে যৌন হয়রানি ও হত্যার নির্দেশ দেয় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলা। হুমকিতে কাজ না হওয়ায় তিনি নুসরাতকে ভয়-ভীতিও দেখান তিনি। হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত না থাকলেও নুসরাতকে হত্যার নির্দেশনা ও নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন সিরাজ উদদৌলা। পুড়িয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নুর উদ্দিন

পুরো ঘটনাকে নাটক বানাতে সহায়তা করে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন। হত্যাকাণ্ডের আগে যে কক্ষে বোরকা রাখা ছিল তা পরিদর্শন করে এবং ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার পর ভবনের নিচের পরিস্থিতি খুব চাতুর্যের সঙ্গে সামলে নেয় সে।

শাহাদাত হোসেন শামীম

হত্যাকাণ্ডের আগে একটা বৈঠকে উপস্থিত ছিল শামীম। কে কোন কাজ কীভাবে করবে তার পুরো পরিকল্পনা সাজায় সে। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়, সেই টাকা দিয়ে কেনা হয় বোরকা ও কেরোসিন।

মোকসুদ কাউন্সিলর

অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির দাবিতে ২৮ মার্চে মানববন্ধনে অংশ নেয় মাকসুদ আলম। শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে না থাকলে আইসিটি পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার হুমকি দিতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেয় সে। হত্যাকাণ্ডের জন্য সে ১০ হাজার টাকা দেয়। ঘটনার সবকিছু জানলেও ঘটনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অবস্থান করছিলেন জেলা শহর ফেনীতে।

সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের

ঘটনাস্থলে নুসরাতকে শোয়ানোর পর তার পা বাঁধে জোবায়ের। নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢালার পর শামীমের নির্দেশে নিজের সঙ্গে থাকা ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।

জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন

নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢালে সাখাওয়াত। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর সে ঠান্ডামাথায় পরীক্ষার হলে যায়। পরে চিৎকার শুনে ছুটে এসে নুসরাতকে দেখতে যায় ছাদে, এমন ভাব করে যেন কিছুই জানে না সে।

হাফেজ আব্দুল কাদের

ঘটনার সময় মেইন গেটের বাইরে পাহারায় ছিল কাদের। সে নুসরাতের ভাই নোমানের বন্ধু। নুসরাত পরীক্ষার হলে ঠিকমতো পৌঁছেছে কি না, নোমান তা দেখতে চাইলে তাকে বাধা দেয় কাদের। কাদেরের কাছে নুসরাতের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, ২ মিনিট পর জানাচ্ছি। পরে সে জানায়, নুসরাত গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

আবছার উদ্দিন

ঘটনার সময় গেট পাহারার দায়িত্বে ছিল আবছার। ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও সে নুসরাতের মাকে ফোন করে যৌন হয়রানির অভিযোগে হওয়া মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

কামরুন নাহার মনি

মনিকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বোরকা ম্যানেজ করতে বলে শামীম। ওই টাকায় মনি দু’টি বোরকা ও হাতমোজা কেনে। পরে ওই দুই বোরকা ও তার নিজের একটি বোরকাসহ মোট তিনটি বোরকা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় রেখে আসে। ছাদে নেয়ার পর নুসরাতকে শোয়ানোর কাজে সহায়তা করে এবং নুসরাতের বুকের ওপর হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে সে। ঘটনার পর ঠান্ডা মাথায় এসে সেও পরীক্ষায় অংশ নেয়।

উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা ওরফে শম্পা

নুসরাতকে ছাদে নেয়ার পর মামলা তুলে নিতে নুসরাতের মাকে প্রথমে ফোনে চাপ দেয় সে। রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ের ওড়না খোলে সে। এরপর ওই ওড়না ছিঁড়ে দুই ভাগ করে, যা দিয়ে নুসরাতের হাত ও পা বাঁধা হয়। নুসরাতের হাত পেছনে নিয়ে বাঁধার পর কেরোসিন ঢালার গ্লাসটি নুসরাতের হাতে ধরিয়ে দেয়; যাতে বোঝা যায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে।

আব্দুর রহিম শরীফ

বাইরের গেটে পাহারায় ছিল শরীফ। নুসরাতের ভাই ভেতরে ঢুকতে চাইলে বাধা দেয় সে।

ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন ও মহিউদ্দিন শাকিল

তারাও গেটে পাহারায় ছিল। সবকিছু স্বাভাবিক বোঝাতে যা যা করণীয় তা করছিল তারা।

মোহাম্মদ শামীম

প্রথমে পপির সঙ্গে ভবনটির গেটে পাহারায় ছিল শামীম; যাতে কেউ সে সময় ভবনে উঠতে না পারে।

রুহুল আমিন

ঘটনার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে পুলিশ প্রশাসন ম্যানেজ করার আশ্বাস দেয় রুহুল আমিন। নুসরাত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে যা যা করার সব করে সে। ঘটনার পর শামীমের সঙ্গে দুই দফা ফোনে কথা বলে সবকিছু নিশ্চিত করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/টিআরএইচ/টিএএস