নুসরাতের জানাজা পড়ালেন বাবা

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৬ ১১ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ২১:৩৩ ১১ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনীর সোনাগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নুসরাত জাহান রাফির জানাজা হয়েছে। জানাজা পড়িয়েছেন নুসরাতের বাবা মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা একেএম মুসা।

এর আগে বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছে নুসরাতের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। এ সময় সোনাগাজী বাজার থেকে নুসরাতের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে ছিল আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয়দের ভিড়।নুসরাতকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে আসেন তারা।

নুসরাতের মরদেহবাহী ফ্রিজারভ্যান পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক অবস্থা সৃষ্টি হয়। এসময় নুসরাতের বাবা একেএম মূসা, মা শিরিনা আক্তার, বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বার বার মুর্চা যান।

নুসরাতের মরদেহ এক নজর দেখতে সকাল থেকে অপেক্ষা করা মানুষের চোখে-মুখে ছিলো কান্নার চাপ।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নুসরাতের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে মানুষের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। পরে সোনাগাজী ছাবের পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয় নুসরাতের মরদেহ। 

সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা পূর্ব কার্যক্রম শুরু করেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন।

এসময় বক্তব্য দেন ফেনী ইউনিভার্সিটি ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, সোনাগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ, নিহত নুসরাতের বাবা একেএম মূসা ও বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

এদিকে নুসরাতের হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়েছেন এলাকার সবস্তরের মানুষ। জানাজায় অংশ নিয়ে হাজার হাজার মানুষ অশ্রুভেজা নয়নে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।

জানাজায় বোনের জন্য ক্ষমা চাইলেন বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

জানাজার আগে বক্তব্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে নোমান বলেন, বিগত ৫ দিন ধরে সারাদেশের মানুষ আমার বোনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তাররা বোনের সুস্থতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এসময় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নোমান তার বোনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিও করেন।

এদিকে সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন। তারা অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।

দুপুর ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ হস্তান্তরের পর সোনাগাজীর উত্তর চর চান্দিনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় অ্যাম্বুলেন্সটি।

৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে একদল মুখোশধারী। পাঁচদিন পর বুধবার রাতে ঢামেকে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন নুসরাতের ভাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর..