নিয়ম মানার ভয়ে জি-নেটওয়ার্কের পলায়ন!
Best Electronics

নিয়ম মানার ভয়ে জি-নেটওয়ার্কের পলায়ন!

অমিত গোস্বামী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৯ ৩ এপ্রিল ২০১৯  

প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে ‘ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে’। গত মঙ্গলবার থেকে জি বাংলা, জি সিনেমাসহ ভারতীয় জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেলের সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখা হয়েছে শুনে আমার প্রবাদটি মনে হলো।

ঘটনা এই যে সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হচ্ছে কিনা জানতে চেয়ে দুই পরিবেশক সংস্থা ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং বিষয়টি আগামী সাত দিনের মধ্যে কেবল অপারেটরদের জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির পরই জাদু ভিশন জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চ্যানেলগুলো বন্ধ করতে কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি। কিন্তু ‘জাদু ডিজিটালের’ কাস্টমার সার্ভিস কর্মকর্তা শামীমা মিতু গণমাধ্যমকে জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো ‘সাময়িকভাবে’ বন্ধ করা হয়েছে।  

বাংলাদেশে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর উপধারা-১৯(১৩)-এর বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কাজেই বিদেশি চ্যানেল হতে হবে দেশীয় বিজ্ঞাপনবিহীন। কথাটা এক কথায় উড়িয়ে দেয়া যায় না। সব প্রোডাক্টের একটা বিজ্ঞাপনের বাজেট থাকে। সেটা যদি বিদেশে চলে যায় তাহলে স্থানীয় চ্যানেল চলবে কিভাবে? একইভাবে বিজ্ঞাপনদাতারা বলতে পারেন যে কস্ট এফেক্টিভ থিওরি অনুসারে বিদেশি টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়া লাভজনক। কেন তবে তারা বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেবেন না? কিন্তু আইন তাদের বিরুদ্ধে। তবে আইন আছে আবার আইনের ফাঁক আছে। যেমন প্রাণ গ্রুপ ভারতে তাদের ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। তাদের উদ্দেশ্য কতটা ব্যবসা করার তা তাদের পণ্যের দুর্লভতা দেখেই বোঝা যায়। কিন্তু তারা বিভিন্ন প্রোগ্রামের মূল স্পন্সর। তাদের বিজ্ঞাপনে কাঁপে টেলিভিশন। কিন্তু কী করে ধরবেন তাদের? তারা বলবে যে আমাদের বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ভারতে বিপণন। বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আইনত তারা ঠিক। কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে পণ্যের প্রচার এবং তারা বেছে নিয়েছেন জনপ্রিয় ভারতীয় টিভি চ্যানেল।

একসময় ব্যাপারটা ঠিক উলটো ছিল। আশির দশকের শেষদিকে বিটিভির জনপ্রিয়তা এই পর্যায়ের ছিল যে বিটিভি সম্প্রচারিত হওয়া শুরু হলে ভারতীয় চ্যানেল পশ্চিমবঙ্গে বড় একটা কেউ দেখত না। তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একডাকে চিনত ‘খালামনি’ ওরফে ফেরদৌসী রহমান বা বাকের ভাই ওরফে আসাদুজ্জামান নূরকে। তখন বিটিভির বিজ্ঞাপনের জোরে বাজারে বিকোচ্ছে বাংলাদেশি সাবান, গুঁড়োদুধ, কনডেন্সড মিল্ক, পেস্ট। চোরাইপথে আসছে সব। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এরশাদ বিটিভির প্রচারে তখন রীতিমতো হিরো। বাংলাদেশের টিভি নাটকের জনপ্রিয়তায় ঢাকা পড়ে গেছে কলকাতায় তৈরি বাংলা সিনেমা। উপায় না দেখে কলকাতা দূরদর্শন শনিবারে চালিয়ে যাচ্ছে উত্তম, সুচিত্রা, সুপ্রিয়া, সৌমিত্র। তা সত্ত্বেও বোকাবাক্স শাসন করে যাচ্ছে পদ্মাপারের রাজ্জাক, ববিতা। এ এক অদ্ভুত বাংলাদেশি রাজত্ব কায়েম হয়েছিল ভারতের বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলে।

কিন্তু সময় পালটে গেল দ্রুত। বেসরকারিকরনের সঙ্গে সঙ্গে সর্বভারতীয় চ্যানেলগুলো বাংলা ভাষায় খুলে বসল খবরের ও বিনোদনের চ্যানেল, কেউ কেউ পরে এলেন খেলাধুলোর চ্যানেলে। ভারতে এই ধরনের খোলাবাজার নীতি চালু হওয়ায় কপাল ফিরল সিরিয়াল ও সিনেমানির্মাতাদের।  উঁচু মানের প্রযুক্তিসমৃদ্ধ যন্ত্রপাতির গুনে ছবি ও শব্দ হয়ে উঠল ঝকঝকে। দ্রুত তারা জনপ্রিয় হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গে। তখন তারা উঁচু মানের অনুষ্ঠানের জন্যে পয়সা ঢালত। কে যাননি এই টেলিভিশনি কুহকে। সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার থেকে পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ, অভিনেতা প্রসেনজিৎ থেকে কবি শ্রীজাত। তখনও বাংলাদেশ চিত্রে অনুপস্থিত। কিন্তু যে মুহূর্তে বাংলাদেশে কেবল নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল, অদ্ভুতভাবে তারা প্রত্যক্ষ করল যে তাদের কম বিনিয়োগের সিরিয়াল বা রিয়ালিটি শো তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাদের টার্গেট অডিয়েন্স হয়ে উঠল বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতীয় আইনি বাধ্যবাধকতার ভয়ে তারা বাংলাদেশের সাহিত্য বা সঙ্গীত বা সংস্কৃতিকে তুলে আনল না তাদের সিরিয়ালে। কিন্তু রিয়ালিটি শোয়ে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। সেখানে তারা আনতে শুরু করল আলোকরা কিছু কচি কাঁচাদের। যেমন এখন চ্যানেল কাঁপাচ্ছে নোবেল। গান গাইছে সে অন্যদের। জেমস’এর গান গেয়ে সে পর্দা কাঁপাচ্ছে। কিন্তু জেমসকে আনা হচ্ছে না কোনো অনুষ্ঠানে। কারণ তার পারিশ্রমিক বেশি। দুধের স্বাদ যখন ঘোলে মিটছে তখন ঘোল কেনাই ভালো। কাজেই ভারতের চ্যানেল বাংলাদেশে নিজেদের চ্যানেল হয়ে উঠেছে যারা না ভারতের না বাংলাদেশের কৃষ্টিকে তুলে ধরছে। তারা এক অবাস্তব বকচ্ছপ সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে।

তাহলে কি বাংলাদেশের চ্যানেলগুলির ভারতে কোনো চাহিদা নেই? ইউটিউব চ্যানেল খুলে দেখুন। বেশ কিছু বাংলাদেশি প্রোগ্রামের দর্শকসংখ্যা অকল্পপনীয়ভাবে বেশি। কী করে হলো? কারণ ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের দর্শক গোগ্রাসে গেলে। ঈদের নাটক, মাত্র বিয়াল্লিশ মিনিটের, তার চাহিদা কত সে সম্পর্কে কোনো ধারনা নেই বাংলাদেশিদের। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভারতের বাঙালিদের। তারা বাংলাদেশি চ্যানেল সরাসরি এপারে বসে দেখতে পান না। কারণ সম্প্রচার নেই।

প্রশ্ন বাংলাদেশের চ্যানেল মালিকরা তাদের চ্যানেল ভারতে সম্প্রচার করতে কতটা উদ্যোগী? এক ফোঁটাও নয়। তাদের ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী উপদেশ দিয়েছিলেন যে আপনারা আপনাদের দেশের সরকারে মাধ্যমে আপনাদের চ্যানেলকে রিজিওনাল বা প্রাদেশিক চ্যানেল (যেহেতু বাংলায় সম্প্রচারিত হবে) হিসেবে অভিহিত করে একটা আবেদন করুন, আমরা নতুন আইন করে আপনাদের সম্প্রচারের অনুমতি দেব। তৎকালীন ইউপিএ সরাকারের সাথে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের সখ্যতা সম্পর্কে আমরা অবগত। আবেদন করলে অবশ্যই হয়ে যেত। কিন্তু সেই আবেদন ভারত সরকারের কাছে তখন আসে নি। কিন্তু কেন? বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের মালিক আমাকে একান্ত আড্ডায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মাত্র ২০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের বাজারে দেশীয় চ্যানেলগুলো চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর যদি ভারতে সম্প্রচারের জন্য টাকা দিতে হয় তাহলে বিপদে পড়তে হবে।’ আশ্চর্য হয়েছিলাম। ভারতে সম্প্রচার হলে তো ভারতীয় বিজ্ঞাপন তো তারা পাবে এবং অতি অবশ্যই তাদের ভারতে অফিস ও অন্যন্য অবকাঠামো তৈরি করে নিতে হবে। সে ঝুঁকি তারা নেয়নি।
এবারে জি টিভির সম্প্রচার বন্ধ হল তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ধুয়ো তুলে। এই প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে সাম্প্রতিক সরকার গঠনের পরে। সবাই ধরে আনতে বললে বেঁধে আনছে। বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভেনিউ বাংলাদেশের অ্যাসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন চ্যানেল ওনারস – এর সঙ্গে এক বৈঠকের পরে স্থির করেছিলেন ভারতীয় চ্যানেল সহ সকল বিদেশি চ্যানেলের ওপরে কর বা ফি বসানো হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মোহিত নিজে উদ্যোগ নিয়ে এক বিশ্লেষণ করে ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভেনিউকে পত্র মারফৎ জানান যে ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল প্রসারনে প্রভূত বিদেশি মুদ্রা প্রতিটি চ্যানেলকে দিতে হবে সেই তুলনায় ভারতীয় চ্যানেলগুলি বাংলাদেশ সরকারকে যে মূল্য দেয় তা যৎসামান্য। ২০১৪ সালে স্থিরীকৃত হয়েছিল প্রতিটি বিদেশি চ্যানেলকে বছরে ২০ কোটি টাকা ট্যাক্স বা ফি দিতে হবে। কিন্তু প্রমাদ গুনলেন ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভেনিউ-এর কর্তাব্যক্তিরা। তারা অর্থমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিলেন যে ট্যাক্স অবশ্যই বাড়ানো উচিত কিন্তু এতটা নয় যাতে বিদেশি চ্যানেলরা পালিয়ে যায়। এখন ইন্টারনেটের যুগ। এতে ভারতীয় ডিশ সংযোগ বেড়ে যাবে বাংলাদেশে এবং ভিপিএন সিসটেমে সবাই সব ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে বসেই দেখতে পাবে। তাতে তারা বাংলাদেশের চ্যানেল আদৌ দেখবে না। কাজেই রেভেনিউ আর্ণিং বা কর আদায়ের ক্ষেত্রে ধ্বস নামবে। অতএব এ ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। ব্যাপারটার এখানেই ইতি।

অনেকে আবার নৃত্য করছেন– দ্যাখ, কেমন লাগে? অনেক পণ্ডিত সোশাল মিডিয়াতে মন্তব্য করেছেন– বাংলাদেশের চ্যানেল ভারতে দেখানো যায় না বলে ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি কথা জেনে রাখা ভাল তা হল গত বছর ভারত সরকারের একসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান ভারতে দেখানোর ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো আইনি বাধা নেই। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে যে কেউ ভারতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংক করতে পারবে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ভারতীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও ভারতে কোনো বাংলাদেশি চ্যানেল ডাউনলিংকের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। কোনো কোম্পানি যদি বাংলাদেশি চ্যানেল ডাউনলিংক করতে চায়, তা হলে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নীতিমালা অনুযায়ী সর্বতোভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল ভারতে ডাউনলিংকের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেনি।’ তবে আবেদনকারী কোম্পানিকে প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য ৫ কোটি ভারতীয় টাকা এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি অতিরিক্ত চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ ভারতীয় টাকা নেট মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এই মূল্য ছাড়াও ডাউনলিংকের অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ ভারতীয় টাকা ফি দিতে হবে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আপলিংক করা প্রতিটি চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ ভারতীয় টাকা দিতে হবে। ডাউনলিংকের নিবন্ধন ও অনুমতি ১০ বছর বহাল থাকবে। এটা করতে পারলে মাল্টি সিস্টেম অপারেটররাও (এমএসও) সেই চ্যানেল বিপণনের ব্যবস্থা করতে পারবে।  

তাহলে? বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় ৪৭ বছর পর প্রথম বাস্তবসম্মত সম্প্রচার নীতিমালা এতদিনে তৈরি হয়েছে। সম্প্রচার আইন তৈরি  হয়েছে। কথা ছিল এ নিয়ে দ্রুত আলোচনা হবে। কিন্তু হয়নি। এটা অবশ্যই বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। কারণ তিস্তার স্রোত বাংলাদেশের জন্য যতটা জরুরি, বাংলাদেশের চ্যানেল তেমনই ভারতে আসা জরুরি। না হলে যেটা হবে সেটা হচ্ছে তা হল সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। বাংলা সংস্কৃতিকে গিলে খাচ্ছে বকচ্ছপ সংস্কৃতি। কাজেই বাংলাদেশ সরকারের উচিত বিদেশি চ্যানেলগুলিকে আইনের গণ্ডিতে রেখে সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া । একই সাথে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ পাঠানো যে বাংলাদেশেরচ্যানেলগুলিকে রিজিওনাল বা প্রাদেশিক চ্যানেল (যেহেতু বাংলায় সম্প্রচারিত হবে) হিসেবে অভিহিত করে আইন করে ভারতে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা। তা হলেই এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics