নিষ্পত্তির অপেক্ষায় চাঞ্চল্যকর ৭৫২ মৃত্যুদণ্ডের মামলা

নিষ্পত্তির অপেক্ষায় চাঞ্চল্যকর ৭৫২ মৃত্যুদণ্ডের মামলা

আহমেদ তানভীর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৭ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের (ডেথ রেফারেন্স) ৭৫২ মামলা। এর মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে ৭২১টি এবং আপিল বিভাগে ৩১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলাসহ চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর অনেক মামলাই রয়েছে।

দেশের নিম্ন আদালতগুলোয় এ ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পর উচ্চ আদালতে এসে বিচার কার্যক্রম চলছে অনেকটাই ধীরগতিতে। এতে হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ডের মামলার জট বাড়ছে। বছরের পর বছর সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে ঝুলে থাকা এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় হতাশ বিচারপ্রার্থী ও আসামি উভয়পক্ষই। ন্যায়বিচারের আশায় বাদী ও আসামিদের আদালতপাড়ায় ঘুরতে হয় বছরের পর বছর।

নিম্ন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত। হাইকোর্টের রায়ের পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করে থাকে। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়েও সংক্ষুব্ধ পক্ষ আবেদন করতে পারে।

সুপ্রিমকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতে বার্ষিক ছুটি এবং বিভিন্ন সময় হাইকোর্ট বেঞ্চ পুনর্গঠনের কারণেও এসব ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানিতে ধীরগতি হয়ে থাকে। এদিকে নিম্ন আদালত থেকে নিষ্পত্তির পর অনেক মামলা (ডেথ রেফারেন্স) উচ্চ আদালতে আসায় দিন দিন এ ধরনের মামলার সংখ্যা বাড়ছেই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হাইকোর্ট বিভাগে যে হারে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে বর্তমান বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি করতে আরো ৫ থেকে ৬ বছর সময় লাগবে। হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৭২১টি মামলা (ডেথ রেফারেন্স) বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স মামলা এসেছে ১৫৪টি। ওই বছর নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৩টি। ২০১৭ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা এসেছে ১৭১টি আর নিষ্পত্তি হয় ৬৬টি। ২০১৬ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা এন্ট্রি হয় ১৬১টি, নিষ্পত্তি হয় ৪৫টি। ২০১৫ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা এন্ট্রি হয় ১১৪টি এবং নিষ্পত্তি হয় ৫৮টি। বর্তমানে ২০১৪ সালের ডেথ রেফারেন্স মামলারও শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

গত ১০ বছরে হাইকোর্টে এ ধরনের মামলা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ায় দেশের কারাগারগুলোয় কনডেম সেলে আসামির সংখ্যাও বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ১ হাজার সাতশো এর বেশি।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে বেঞ্চ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। বেঞ্চ বাড়ানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার।

সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান বলেন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পর নিজেও ডেথ রেফারেন্স শাখা পরিদর্শন করেছেন। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বেঞ্চ বাড়িয়েছেন। ডেথ রেফারেন্স শাখায় কাজের গতি আনতে দক্ষ কর্মচারীদের পদায়ন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস