নিষ্ক্রিয় খাগড়াছড়ি জাতীয় পার্টি

নিষ্ক্রিয় খাগড়াছড়ি জাতীয় পার্টি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৩ ২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৬ ২ জুলাই ২০২০

সংগৃহীত

সংগৃহীত

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিপর্যস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু করোনার এই সংকটাবস্থায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টি।

সাধারণ মানুষের অফিযোগ, সামান্য কিছু ত্রাণ দিয়ে ফটোসেশন করে দায় সাড়ছেন জেলা জাতীয় পার্টির নেতারা।

এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টিতে কাঠ ব্যবসায়ী, ঠিকাদারসহ বিত্তবান অনেক নেতা রয়েছেন। বেশির ভাগ নেতাই নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কর্মীদের খোঁজ-খবর রাখেন না, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান না। আমাদের অনেক নেতাকর্মী বর্তমান করোনা সংকটের কারণে আর্থিক সমস্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি আরো বলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে উদাসীন। কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা ও নেতাদের প্রতি তৃণমূলের অনাস্থার কারণে অনেক কর্মী এখন দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয় পার্টি এক সময় দেউলিয়া সংগঠনে পরিণত হবে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ঠাকুরছড়ার গৃহবধূ শান্তিলিকা ত্রিপুরা বলেন, করোনার কারণে মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, লিচুর বাম্পার ফলন হওয়া স্বত্তেও ক্রেতা না থাকার কারণে বেশির ভাগই বাগানে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে অভাব অনটনে অনেক কষ্টে আছি। আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও জাতীয় পার্টিকে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখিনি।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি মো. সোহেল বলেন, করোনার কারণে আমাদের কাজকর্ম সব বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে। পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের কাছ থেকে দুই দফায় ত্রাণ সামগ্রী ছাড়া আর কোথাও থেকে সহযোগিতা পাইনি।

করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জেলা জাতীয় পার্টির পরিকল্পনা, পদক্ষেপ এবং কর্মসূচি সম্পর্কে দলটির জেলা আহ্বায়ক অমৃত লাল ত্রিপুরা বলেন, গত দুই মাস ধরে আমি কিডনি জটিলতায় ভুগছি। বাসা থেকে বের হইনা। বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে আছি। ত্রাণ বিতরণের প্রকৃত সংখ্যা এই মুহূর্তে জানাতে পারছি না।

জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদ আলমের কাছে করোনাকালীন সময়ের কার্যক্রম জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ জেলায় অসহায় মানুষের মাঝে ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করেছেন। যা দিয়ে জেলার ৮ হাজার পরিবারের মাঝে ৫ কেজি করে খাদ্যশস্য দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/এসআর