নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ শিকারে মেঘনায় জেলেরা  

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ শিকারে মেঘনায় জেলেরা  

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ১ মে ২০২০  

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ শিকারে মেঘনায় জেলেরা  

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ইলিশ শিকারে মেঘনায় জেলেরা  

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় নির্ধারিত ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায়। এরপর থেকে লক্ষীপুরের মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা থাকছে না। তাই এখন ইলিশ শিকারের আনন্দে মেঘনা নদীতে নেমেছে জেলার প্রায় ৬০ হাজার জেলে। 

এরইমধ্যে জেলেরা বেশ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই অবসর সময়ে ঠিকঠাক করে নিয়েছেন জাল-নৌকাসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ। অবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নেমেছেন। নদীতে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় জেলে পরিবারগুলোতে উৎসব বিরাজ করছে। 

মেঘনা নদীর পুরো উপকূলীয় এলাকার ঘাটগুলো আবার সরব হয়ে উঠেছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার সময় শুন্যতা বিরাজ করছিল সেখানে এখন আবার প্রাণ সঞ্চার ফিরে এসেছে। তবে এই উৎসবের মধ্যে রয়েছে করোনা আতঙ্ক।  

জাটকা রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত (দুই মাস) মেঘনার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এ দুই মাস লক্ষীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। 

নিষেধাজ্ঞা থাকায় লক্ষীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি ছিলো নিষিদ্ধ।  

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে নদীতে মাছ শিকারে যাচ্ছেন তারা। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় গত দুই মাস ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন তারা। এখন নদীতে মাছ ধরা পড়লে সামনের দিনগুলো তাদের ভালো কাটবে বলে আশা তাদের। এদিকে কিছু অসাধু জেলে গত দুই মাস সুযোগ পেলেই নদীতে মাছ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় ৬০ হাজার জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে লক্ষীপুরে ৫২ হাজার ২৫০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করা জেলেদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, আজ থেকে ইলিশসহ অন্যান্য সব ধরনের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা নেই। তবে সব কাজই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানতে হবে। এটা সবার জন্য সমান। নদীতে মাছ ধরার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। জেলেরা যাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলেন তা তদারকি করা হবে।

তিনি আরো জানান, নিবন্ধিত ৫২ হাজার ২৫০জন জেলেকে চাল দেয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২৪ হাজার ৩৪৪ জন জেলেকে চাল দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২৭ হাজার ৩৪৪ জনকে চাল দেয়া হবে। নিবন্ধিত প্রত্যেকে জেলে ৮০ কেজি করে চাল পাবেন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ