নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব মুরাদনগর

নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব মুরাদনগর

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১১ ৮ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার হাটবাজারে চলছে পলিথিনের রমরমা ব্যবসা ও ব্যবহার। হাটবাজারে একটি ডিম কিনলেও দেয়া হয় পলিথিন। নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব উপজেলার হাটবাজার।

অপচনশীল পলিথিনে ভরাট হচ্ছে নালা-নর্দমা। আর তাতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নিষিদ্ধ এই  ব্যবসাকে অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন, বিপণন, ব্যবহার নিষিদ্ধ; অথচ সবার হাতে হাতে পলিথিন।

নিত্যদিনের বাজার সদাই মানেই পলিথিনের ব্যবহার। নিষিদ্ধ পলিথিনে মারাত্বক বিপর্যয় ঘটছে মুরাদনগর উপজেলার পরিবেশ। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ড্রেন। সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পূর্ব অংশ কুমিল্লা - সিলেট মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তুপ দেখলেই অনুমান করা যায় কি পরিমাণ পলিথিন ব্যাবহার হয় এই বাজারে।

উপজেলার তছলিম সরকার, নেছার, এমকে আই জাভেদ ও আল জানান, অপচনশীল পলিথিন কৃষির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই পলিথিনে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। এটি জমিতে পড়লে ফসলাদি হয়না। তাই নিষিদ্ধ এই পলিথিন বন্ধ করে পাট জাতীয় ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। 

উপজেলার প্রতিটি বড় বাজারে রয়েছে পলিথিনের খুচরা ব্যবসায়ী। যাদের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি দোকান ও ক্রেতা সাধারণের হাতে হাতে পৌঁছে যায় পলিথিন।

দুই টাকার চকলেট থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকার বাজার পর্যন্ত এখন পলিথিনে দেয়া হয়। একটি ডিম কিনলেও একটি পলিথিন দেয়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ বাজারের দুইজন বড় ব্যবসায়ী আছেন, তাদের পলিথিনের একাধিক গোডাউন রয়েছে। বাজার ছাড়াও বাড়িতে রেখে পলিথিন সার্ভিস দিয়ে থাকেন।

ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র এক ব্যবসায়ী জানান, এই ব্যবসায় লাভ ভালো। পলিথিন পচেনা, গলেনা, খারাপ পড়লে কোম্পানি ফেরত নেয়।

তিনি আরো জানান, খুচরা বিক্রি করলে কেজি প্রতি ১শ’ টাকা লাভ হয়। পাইকারি বিক্রি করল প্রতি কেজিতে ২০ টাকা লাভ হয়। এইসব পলিথিন পুরান ঢাকার ইসলামবাগ, যাত্রাবাড়ি, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে  কাভার্ডভ্যানের মাধ্যমে গভীর রাতে আসে। সেখান থেকে কোম্পানীগঞ্জ হয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাইনউদ্দিন আহম্মেদ সোহাগ বলেন, পলিথিন কৃষিজমির জন্য হুমকি স্বরুপ। এটি অপচনশীল হওয়ায় যেখানে পড়ে সেখানে সূর্যের রশ্মি পড়েনা। আর সূর্যের রশ্মি না পড়লে ফসলাদি হয়না।

পলিথিনের ব্যবহার রোধ করে পাটের ব্যাগ ব্যাবহার বাড়াতে পারলে কৃষিতে আবারো সোঁনালী আশ খ্যাত পাটের সুদিন ফিরে আসবে।

এ ব্যাপারে মুরাদনগরের ইউএনও   অভিষেক দাশ বলেন, বড় বড় চাল দোকানে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। নিদিষ্ট করে পলিথিনের জন্য করা হয়নি। পলিথিন নিষিদ্ধ, এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। 

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে