নিলেন দুই হাজার, রশিদ ৫২ টাকার

নিলেন দুই হাজার, রশিদ ৫২ টাকার

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫০ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৩ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ধানের জমির খাজনা দিতে ভূমি অফিসে যান যশোরের মণিরামপুরের গাঙ্গুলিয়া গ্রামের কানাই কর্মকার। সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম রসুল প্রথমে ছয় হাজার দাবি করলেও পরে দুই হাজার টাকা দিয়ে খাজনা আদায় করেন তিনি। টাকা নিয়ে তাকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু উল্লেখ করেছেন মাত্র ৫২ টাকা।

কানাই কর্মকার লোহা পিটিয়ে সংসার চালান। বাবা চন্ডি চরণ কর্মকারের সূত্রে পাওয়া ১১ শতাংশ জমি বিক্রির জন্যই সংশ্লিষ্ট রোহিতা ইউপি ভূমি অফিসে যান তিনি।

এদিকে একই ইউপির বাগডোব গ্রামের সায়েরা বেগম ও আনোয়ারা বেগমের দুই শতাংশ জমি বিক্রির উদ্দেশে ১২ জানুয়ারি ওই ভূমি কর্মকর্তার কাছে যান মতিয়ার রহমান নামে এক যুবক। ওই সময় মতিয়ারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে মাত্র ১০ টাকার রশিদ দেন গোলাম রসুল। প্রতিবেদকের কাছে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কানাই ও মতিয়ার।

কানাই কর্মকার বলেন, ১১ শতাংশ জমি বেচার জন্য খাজনা দিতে যাই রোহিতা ভূমি অফিসে। সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম রসুল খাজনার রশিদ নেই বলে ১৫-২০ দিন ঘোরান। পরে একদিন ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আমি দুই হাজার টাকা পরিশোধ করলে তিনি রশিদ দেন। বাড়ি এসে রশিদ খুলে দেখি ৫২ টাকা উল্লেখ করা।

মতিয়ার রহমান বলেন, নানির সূত্রে মা ও খালা দুই শতাংশ জমি পেয়েছেন। তা বেচার জন্য খাজনা দিতে হবে। ভূমি অফিসে গেলে গোলাম রসুল এক হাজার টাকা নিয়ে ১০ টাকার রশিদ দেন।

শুধু কানাই বা মতিয়ার নয় গোলাম রসুলের হাতে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ সেবার নামে প্রতারিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানায়, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিজেই সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছে মোটা অংকের টাকা চান। টাকা দিতে না পারলে তাদের ফোন নম্বর রেখে দেন তিনি। পরে তাদের ডেকে এনে বন্ধের দিনে কাজ করেন। প্রতি শনিবার তিনি একা অফিসে এসে দুই-তিনজন দালালের মাধ্যমে তিনি এসব কাজ করেন।

রোহিতা ইউপির পট্টি-স্মরণপুর ওয়ার্ড সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, গোলাম রসুলের ব্যাপারে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি।

অভিযুক্ত রোহিতা ইউপির ভূমি কর্মকর্তা গোলাম রসুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যার কাছ থেকে যা নেয়া হয়েছে, রশিদে তা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ওই সময় এক ব্যক্তিকে ১৪২ টাকার খাজনার রশিদ দিয়ে তাকে এক হাজার ৭৪২ টাকা নিতে দেখা গেছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান বলেন, এ ব্যাপারে কিছু বলার নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।

ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার সরকারি ও মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এডিসি (রাজস্ব) আসিফ মাহমুদ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/আরআর