নির্জন দ্বীপে আড়াই যুগ, করোনার ভয় নেই তার

নির্জন দ্বীপে আড়াই যুগ, করোনার ভয় নেই তার

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৮ ২৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৯:০৩ ২৯ মার্চ ২০২০

নির্জন দ্বীপে ইতালির নাগরিক মাওরো মোরান্দি

নির্জন দ্বীপে ইতালির নাগরিক মাওরো মোরান্দি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে মড়কের মতো মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ৩০ হাজার ৯০৭ জনের মৃত্যুতে থরথর করে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। ভাইরাসটি কখন, কাকে, কিভাবে আক্রমণ করে বসে তার কোনো ইয়াত্তা নেই। করোনার আতঙ্কে লকডাউন ও কারফিউ চলছে অনেক দেশে। কারণ ভাইরাসটির কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। ঘরে বন্দী থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আর ইতালিতে মানুষদের জীবনের সর্বনাশ করছে করোনাভাইরাস। কিন্তু সেই দেশের এক নাগরিক দিব্যি করোনাকে ভয় পাচ্ছেন না। কারণ তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না করোনাভাইরাস।

ইতালির নাগরিক মাওরো মোরান্দি। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্বদিকে ভূমধ্যসাগরের মাদ্দালিনা দ্বীপপুঞ্জের অংশ বুদেল্লির এক নির্জন দ্বীপে প্রায় ৩০ বছর ধরে রয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান টাইমস ও সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ইতালি থেকে নৌপথে পলিনেশিয়ার দিকে (মধ্য-দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল) ১৯৮৯ সালে যাত্রা করেন মাওরো। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়ে একটি নৌকায় ভাসতে ভাসতে বুদেল্লি দ্বীপে পৌঁছান তিনি।

দ্বীপে সূর্যাস্তের ছবি

সেখানে পৌঁছার পর মাওরো জানতে পারেন দ্বীপের রক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। সেই সুযোগ গ্রহণ করেন মাওরো। দ্বীপের সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে নাগরিক জীবন ত্যাগ করেন তিনি। নির্জন দ্বীপে শুরু করেন একাকিত্বে জীবন।

মাওরো একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নীল জলরাশিতে ভাসতে থাকা এই ভূমি গোলাপি দ্বীপ নামে পরিচিত। গোলাপি রঙের বালু দ্বীপটি ধরা দেয় অনন্যরূপে। এখানকার জীববৈচিত্র্যও যে কাউকে মোহিত করবে।

এক সময় মাওরোকে ‘হেয়ালি লোক’ বলে অভিহিত করতেন স্বজনরা। এখন ৮১ বছর বয়সী মাওরোকে ঈর্ষা করছেন অনেক বন্ধু ও স্বজনরা।

দেশের মানুষ যখন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে থরথর করে কেঁপে দিন পার করছেন, তখন সুনসান নীরব দ্বীপের নীল জলরাশি, পাথুরে অঞ্চলে ঘুরছেন মাওরো। ছাউনির ঘরে রাত্রিযাপন করছেন। তাকে এখন করোনা স্পর্শ করতেই পারবে না। সবাই তাকে ঈর্ষা করতেই পারে।

ডিজিটাল মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ সম্পন্ন করেন মাওরো। দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির খবর জানে তিনি। তার কাছে সিএনএন জানতে চায় কেমন আছেন মাওরো। তিনি বলেন, ভালো আছি। নিরাপদ আছি। গোটা দ্বীপ সুরক্ষিত থাকায় কোনো ঝুঁকি নেই। এখানে নৌকা পর্যন্ত আসতে পারে না। তাই করোনাভাইরাসের কোনো ভয় নেই।

মাওরো দুঃসময় কাটার জন্য বন্ধু ও স্বজনদের জন্য প্রার্থনা করছেন। তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় খাবার পাঠায় সরকার। তবে এখন পরিস্থিতির কারণে খাবার পাঠাতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভরশীল তিনি।

দ্বীপের নীল জলরাশি

নির্জন দ্বীপের এ তত্ত্বাবধায়ক ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়। দ্বীপের নীল জলরাশি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। মাওরো মায়ার দ্বীপ ছাড়তে চান না। বাকি সময় একাকি কাটাতে চান। এই দ্বীপে তার মৃত্যু ও শেষকৃত্যের প্রত্যাশা করেন তিনি।

করোনাভাইরাস থেকে মু্ক্ত থাকতে আইসোলেশনে যেতে বলা হয়। প্রকৃত আইসোলেশনে আছেন মাওরো। তার মতে, মানুষ একা এসেছে একাই যাবে। এটাই প্রকৃতির আসল রূপ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ