‘নিজ দায়িত্বে মন্দ করে পস্তাতে রাজি’
Best Electronics

‘নিজ দায়িত্বে মন্দ করে পস্তাতে রাজি’

সাক্ষাৎকার গ্রহণে স্বরলিপি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৪ ৭ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৭ ৮ মে ২০১৯

নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল

নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল

৪ মে ২০১৯, বৃষ্টিস্নাত ছিল ঢাকা। রাস্তার দুপাশে বিভিন্ন শেডের সবুজ বৃক্ষ আর কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য ছড়িয়েছিল স্নিগ্ধতা। এমন দিনে গিয়ে পৌঁছাই নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বারিধারা ডিওএইচএসের রেড অক্টোবর স্টুডিওতে। সেখানে চলছিল এই নির্মাতার দ্বিতীয় সিনেমা ‘ট্রেসপাস’ নিয়ে মিটিং। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ‘উনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক সৈয়দা শাওনসহ আরো দু’জন।

মিটিং শেষ হলে, কথা হল, তারপর দেখা হলো মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের প্রথম সিনেমার অপ্রকাশিত ট্রেইলার আর তিনটি গান। মুগ্ধতা নিয়ে শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পালা। এর আগেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছিল সিনেমার নাম কী করে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’হলো? সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েই শুরু।

ডেইলি বাংলাদেশ: ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ আপনার প্রথম সিনেমা। নামকরণ করার গল্পটা জানতে চাই।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: সিনেমাটির নাম আমি কেন ঊনপঞ্চাশ বাতাস দিলাম এটা অনেকেই প্রশ্ন করেন। এটির নাম প্রথমে ঊনপঞ্চাশ বাতাস ছিল না। প্রথমে চিন্তা করে বানানো একটি নাম দিয়েছিলাম। সেই নামটি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। সেই নামটি আমি মনে রাখতেও চাই না। ঊনপঞ্চাশ বাতাস নামটি নিয়ে গবেষণা করে দেখলাম –ঋগবেদে মরুদগণ ঊনপঞ্চাশ ভাই, তারা যখন কোন কাজ শুরু করে শেষ না দেখা পর্যন্ত তারা পাগলের মতো কাজটি করতে থাকে। ঊনপঞ্চাশ বায়ু বলে একটা বাগ্ধারা আছে। যেটার মানে হচ্ছে পাগলামি।

ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমার গল্পটিও আসলে পাগলামি। এক ধরনের ঘোরের মধ্যে দর্শক থাকবে। সেই তৈরি হওয়া ঘোর আমাকে একটি শেষ অনুভূতি দেয়, দর্শককে কি দেবে জানি না। ঊনপঞ্চাশ বাতাসের ইংরেজি নামকরণ হলো ইনকমপ্লিট ব্রেথ। শুনলেইতো এক ধরনের অস্বস্তি বোধ হওয়ার কথা।

ডেইলি বাংলাদেশ: জ্বী। বোধে আঘাত করেছে। মনে হচ্ছে, নিঃশ্বাস শেষ হল না!

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: ঊনপঞ্চাশ বাতাস নাম দেয়ার উদ্দেশ্যই এটি। আর এই নাম নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ে আমি খুশি। তার কারণ হল, সিনেমার নামকরণ নিয়ে কথা হচ্ছে। যতবার একজন প্রশ্ন করছেন, সিনেমাটির নাম ঊনপঞ্চাশ বাতাস কেন, সে আসলে নামটি মনে রাখছে। বা নামটি তাকে ভাবাতে সক্ষম হয়েছে, পেইন্টিংয়ের মতো। শিল্প থাকবে উন্মুক্ত। দশজন দশ রকমভাবে সেটিকে গ্রহণ করবে। শুধু ঊনপঞ্চাশ বাতাস নয় আমার কোনো শিল্পকর্মেই কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া নেই। আমি ভবিষ্যতেও বলবো না কি বলতে চেয়েছিলাম। সকলে আলাদা করে যেটা ভাববে সেই ভাবনাটাই ঠিক। শিল্পীর ভাবাতে পারার শক্তি থাকতে হয়। সেদিক থেকে আমার উদ্দেশ্য সফল।
 
ডেইলি বাংলাদেশ: ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ নাটকের কথা যদি বলি, সেখানেও শেষ পর্যন্ত আপনাকে সিদ্ধান্ত দেয়ার সুযোগ থেকে সরে আসতে দেখা যায়। আর এটিই মনে হয়, আপনার প্রথম কাজ ছিল?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: না, ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ এটা আমার প্রথম কাজ নয়, মাঝামাঝি সময়ের কাজ। ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’ এটি হচ্ছে আমার জীবনের একটি অন্যতম বড় কবিতা। এটা লিখতে সময় লেগেছিল ৪ থেকে ৫ঘণ্টা, এখন দেখি অনেকেই অনেক জায়গায় বলে এটি আমি দেড় বছরে  লিখেছি। এটা ভুল তথ্য। যদি প্রশ্ন করা হয় কতোদিন ধরে চিন্তা করেছি, তাও বলা কঠিন। কারণ চিন্তা চলমান। ভেবে লিখতে বসলাম, এরকমটা আমার হয় না কখনোই। আমার জীবন যাপনই হচ্ছে শিল্পের। এর ভেতরে কোনো কিছু শিল্প থেকে আলাদা করে ভাবার সুযোগ নেই। আক্ষরিক অর্থে সাড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত ছিল সরল সময়, এরপর থেকে আমি শিল্পের জীবন যাপন করেছি। রাজনীতির চর্চা করেছি, সেটা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেই। সংগীত-রাজনীতি শিল্প সব একই।  ঘোরগ্রস্ত ব্যক্তি জীবনের যে বিক্ষিপ্ততা, আমার যে রাজনৈতিক মতাদর্শ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শিক এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি-কাব্য সবমিলিয়ে আমার শিল্পচর্চা।

ডেইলি বাংলাদেশ:  ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমার সংগীত পরিচালনা নিজেই করছেন। সংগীত চর্চা নিয়ে কিছু বলুন।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: শৈশব থেকেই গান চর্চা শুরু করেছিলাম। পরবর্তীতে ব্যান্ডদল গঠন করেছিলাম। মেঘদল-ব্যান্ডদলটি পরিচিতিও পেয়েছিল।  ওই দল আমি ছেড়েছি অনেক বছর। তারপরে মিউজিক নিয়ে আরো বেশি পড়াশোনা বা চর্চা শুরু করি। ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমার আমি শুধু সংগীত পরিচালনা করেছি ব্যাপারটা এরকম নয়, সংগীতায়োজনও করেছি আমি, বাদ্যযন্ত্রও আমার বাজানো।

ডেইলি বাংলাদেশ:  ঊনপঞ্চাশ বাতাস সিনেমার গল্পের আপনি লেখক, আপনিই পরিচালক, সংগীত পরিচালনা থেকে সংগীত আয়োজনও আপনি করলেন?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: আমি প্রথমত ফর্মুলায় বিশ্বাস করি না। আমাকে যদি কেউ বলে, এটা করো, এটা করলে ভালো হবে-বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমি সে কথা শুনি না। কারণ আমি নিজ দায়িত্বে মন্দকরে পস্তাতে রাজি। আমি কোন বিষয়ে ট্রেন্ড ফলো করি না। একটা চিত্রনাট্য লেখার পর বিভিন্ন চিন্তা মাথায় আসে। আমার মনে হয়, কারো যদি এগুলো করার ক্ষমতা থাকে সেটা তাকে ভালোটাই দেবে। ধরো, যে লেখক, সেই পরিচালক, আবার সেই সংগীত পরিচালক; পুরো ব্যাপারটার মধ্যে অনেক বড় সমন্বয় থাকে। আমার কাছে মনে হয়, আমি যা কিছু করছি তা আমার চাহিদা থেকে তৈরি হচ্ছে। নিজের সক্ষমতা আছে বলে চাহিদা তৈরি হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: গান কয়টি থাকছে, আর কণ্ঠ দিয়েছেন কারা?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: সিনেমায় মোট গান থাকছে পাঁচটি। কণ্ঠ দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে বেজ বাবা সুমন, শৌরিন এবং আমি নিজে একটা গানে কণ্ঠ দিয়েছি। কলকাতা থেকে- সিদ্ধার্থ শংকর রায় (ক্যাকটাস ব্যান্ডের ভোকাল), আর সোমলতা।

ডেইলি বাংলাদেশ: ঊনপঞ্চাশ বাতাসের অভিনয় শিল্পীদের অভিনয়ে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: শতভাগ। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্র শার্লিন ফারজানা ও ইমতিয়াজ বর্ষণসহ প্রত্যেকেই সাত মাস রিহার্সেল করার পর তারা যেভাবে আউটপুট দিয়েছে সেটা সবাইকে অনেক বেশি কনভিন্স করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ: ঊনপঞ্চাশ বাতাস প্রেক্ষাগৃহে কবে আসছে?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: সব কাজ শেষ। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির জন্য আদর্শ সময় মনে করছি সেপ্টেম্বর। ওই সময়ে মুক্তি দেবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ: আমি এসেই দেখলাম মিটিং করছেন, দ্বিতীয় সিনেমা নিয়ে? এ বিষয়ে কিছু বলুন।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: অক্টোবর-নভেম্বর থেকে শুটিং শুরু করবো। এটি প্রযোজনা করবেন সৈয়দা শাওন আপু। এই ধরনের সিনেমায় প্রযোজক পাওয়া কঠিন ( হা হা হা)। সিনেমার কাজ শুরু করার আগে হাতে আছে দুটি ওয়েব সিরিজের কাজ। এগুলো নির্মাণ আগে শেষ করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ: দ্বিতীয় সিনেমার গল্প-চিত্রনাট্য কি লেখা শেষ?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: ২০১৫ সালে গল্প লেখার কাজ শেষ করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: মূল বিষয়বস্তু কী?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: আমি নিজে কোন মানচিত্রের ব্যারিয়ারে বিশ্বাস করি না, তারকাঁটায় বিশ্বাস নেই। যেহেতু বিশ্বাস করি না, কেনো করি না, সেটিকে যাচাই করার সিলমহর হবে এই সিনেমা। নাম ‘ট্রেসপাস’।    

ডেইলি বাংলাদেশ: এখন বেশ ভালোই ব্যস্ততা। মাঝে কাজ কম করেছেন কেন?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। আমি খুব বেশি মেধাবী নই, প্রতিদিন নতুন নতুন কাজ করাও সম্ভব নয়।  

ডেইলি বাংলাদেশ: জনপ্রিয়তা নিয়ে নিজেস্ব চিন্তা কী?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: জনপ্রিয়তা হলো বাজে ধরনের চাপ। ধরো তুমি একজন ট্রাভেলার কিন্তু তোমার সঙ্গে লাগেজ অনেক বেশি। তুমি আরাম করে ট্রাভেল করতে পারবে না। দেখ, আমি জনপ্রিয় নই, তারপরও কিন্তু আমাকে দিনের অনেকটা সময় ইন্ডাস্ট্রিকে দিতে হয়। এখন যেমন তোমাকে সময় দিচ্ছি, এটা কিন্তু সময় দেয়া। পুরোপুরি অখ্যাত হলে এই সময়টুকুও দিতে হতো না। যেহেতু দীর্ঘদিন কাজ করি, পুরোপুরি অখ্যাত হওয়াতো সম্ভব নয়। টেলিভিশনকে অনেক এড়িয়ে চলেও মাঝে-মধ্যে দু’একটি সাক্ষাৎকার দিতে হয়। আবার ইন্সটিটিউট অব মাস কমিউনিকেশনে বছরে দু-তিনটি ক্লাস নিতে হয়। যদি এর থেকে জনপ্রিয় হতাম তখন ব্যাপারটা ডাবল বা তিনগুণ হয়ে যেত। মুশকিল তো! এজন্য আমি জনপ্রিয়তার চাপ নিতে চাই না, কাজ করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ: এই সময়ের শিল্পের রাজনীতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ?

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল: কিছু স্থূল জিনিসের চর্চা হচ্ছে। কিন্তু এটাকে গুরুত্বহীন ভাবা যাবে না। মানুষের যেকোনো অবস্থান  রাজনৈতিক অবস্থান। ধরো, তুমি অগভীর চিন্তা করছো, অগভীর বিষয়বস্তুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছো- তাহলে ওটাও একটা রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু এর ফলে যা হয়, তুমি যখন অগভীর বিষয়বস্তুর মধ্যে আটকে থাকছো তখন নিপীড়ক শ্রেণি আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে

Best Electronics
শিরোনামজঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী শিরোনামপরিবেশ আইন-লঙ্ঘন: উত্তরাঞ্চলের ১৯ ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ হাইকোর্টের শিরোনামকেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে সারা দেশের ফলের বাজারে যৌথ কমিটির তদারকির নির্দেশ হাইকোর্টের শিরোনামরূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনা তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আজ শিরোনামবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হজ ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরু শিরোনামসংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন জমা দিলেন রুমিন ফারহানা শিরোনামরাঙামাটিতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা শিরোনামচট্টগ্রামে বন্দুকযুদ্ধে ছিনতাইকারী নিহত শিরোনামরাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত শিরোনামআজ ইফতার: সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে