নিজের চিকিৎসায় সুস্থ হলেন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক

নিজের চিকিৎসায় সুস্থ হলেন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৮ ১৮ মে ২০২০  

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নাছিরুজ্জামান

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নাছিরুজ্জামান

ডাক্তার তিনি, আবার রোগীও তিনি। নিজেই করলেন নিজের চিকিৎসা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিজেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নাছিরুজ্জামান।

নিজের বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের দায়িত্বও প্রতিদিন পালন করেছেন। 

শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে তার করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসে। তিনি এখন এ ভাইরাস মুক্ত ও শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। 

ডা. মো. নাছিরুজ্জামান লক্ষ্মীপুরে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত। তার চিকিৎসা সেবার বিষয়ে সবার কাছে প্রশংসা রয়েছে। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব সব সময় সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছেন। করোনায় বিভিন্ন স্থানে যখন মানুষ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছিল না তখন তিনি করোনাকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন তার চিকিৎসা সেবা চালিয়ে গেছেন। 

এছাড়া চিকিৎসা সেবার বাইরেও তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এলাকার গরিব অসহায় মানুষের খোঁজ-খবর রেখেছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে তিনি মানুষের কাছে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেব পরিচিতি লাভ করেছেন। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে তিনি যখন করোনায় আক্রান্ত হন তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় মানুষ তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।  

তিনি কীভাবে, কী চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন, তা নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের কথা হয় তার সঙ্গে। পরে তিনি তুলে ধরেন নিজের এই চিকিৎসা ব্যবস্থা।

ডা. মো. নাছিরুজ্জামান বলেন, আমি আক্রান্ত হবার পরও অনেকটা সুস্থ ছিলাম। আমার করোনার সব উপসর্গ ছিলোনা। তবে জ্বর, কাশি, পেট খারাপ ছিল। এসব উপসর্গ নিয়েই আমি একা আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে গেছি। বাড়িতে আইসোলেশনে থেকেই আমি সুস্থ হয়েছি। আমার পরিবারের কিংবা কারো সংস্পর্শেই আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় যাইনি। এ সময় মোবাইলে অর্পিত দায়িত্ব সার্বক্ষণিক পালন করেছি। সম্প্রতি পরপর দুইবার নমুনা সংগ্রহ করা হলে দুটোর ফলাফলই করোনা নেগেটিভ এসেছে। সুস্থতার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

ডা. মো. নাছিরুজ্জামান আরো বলেন, আমি নিয়মিত উপসর্গগুলোর ওষুধ সেবন করেছি। অ্যান্টিবায়োটিকও গ্রহণ করেছি। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যেমন-মাল্টা, কমলা ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেয়েছি। তবে একটু পরপর নাকে মুখে গরম পানির ভাপ নিয়েছি। আর এটাই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ছিল। গরম পানি পান করেছি। আদা, লেবু এগুলোও খেয়েছি। আমি প্রতিদিন গোসল করেছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকেছি। এভাবেই আমি মহান আল্লাহর রহমতে ও মানুষের দোয়ায় সুস্থ হয়েছি।

পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, এ রোগে আতঙ্কিত না হয়ে একটু সচেতন এবং নিয়মিত স্বাভাবিক ওষুধ সেবন ও সতর্ক থাকাই পারে সুস্থতা এনে দিতে। পাশাপাশি আমাদের সবার নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সতর্ক থাকাই পারে করোনাভাইরাস রোধ করতে। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাবেন, তারা মাস্ক ব্যবহার করবেন। ঘরে ফিরে জামা-কাপড় খুলে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবেন। দিনে ৩-৪ বার গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করবেন, গরম পানি খাবেন। ঘনঘন হাত ধুবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ