নিখোঁজের ৯০ দিন পর ঢালাই করা ড্রামে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ

নিখোঁজের ৯০ দিন পর ঢালাই করা ড্রামে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩ ২ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিখোঁজের ৯০ দিন পর ঢালাই করা ড্রামের ভেতরে মিলল নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কুশাবো এলাকায় একটি পুকুর থেকে হত্যাকারীর দেখানো ড্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সায়েম জানান, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল সকালে কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার কদম আলীর ছেলে স্থানীয় ভুলতা এলাকার নুর ম্যানশন মার্কেটের মোটরসাইকেল ও গাড়ির পার্টস ব্যবসায়ী হেকমত আলী তার দোকানের ম্যানেজার  ও তার আত্মীয় কেরাবো এলাকার ইয়াকুবের ছেলে রফিকুল ইসলাম সবুজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সবুজসহ চারজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন। 

মামলাটির তদন্তের ভার আসে রূপগঞ্জ থানার এসআই আমিনুল ইসলামের কাছে। তিনি মামলার ভিত্তিতে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজকে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে সবুজ পুলিশের কাছে কোনো রকম স্বীকারোক্তি না করায় অপহরণের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে আলাদতের মাধ্যেমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এদিকে মামলাটির অধিক অগ্রগতির জন্য তার স্ত্রী মামলার বাদী আদালতে তদন্তভার অন্যত্র হস্তান্তরের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের জন্য গত ১৮ জুন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের উপর দায়িত্বভার অর্পিত হয়। গত ২৬ জুন মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই এর এসআই আবু সায়েমকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি ৩০ মে আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড আনেন রফিকুল ইসলাম সবুজকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা। ৮৯ দিন আগে ব্যবসায়ী হেকমত আলীকে অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় হত্যার পর তাকে একটি তেলের ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কুশাবো এলাকার একটি পুকুরে ফেলে রাখে হত্যাকারী রফিকুল ইসলাম সবুজ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রফিকুলের দেখানো সেই পুকুর থেকে ঢালাই করা ড্রামভর্তি লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পড়নে পাঞ্জাবি ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে মামলার বাদী ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা ও পরিবারের অন্যান্যরা নিশ্চিত করে এটা নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ।

নিহত ব্যবসায়ী হেকমতের স্ত্রী ও মামলার বাদী রোকসানা আক্তার জানান, দোকানের ম্যানেজার তার বোনের ছেলে রফিকুলের সঙ্গে ব্যবসার টাকা পয়সা নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হতো। টাকা পয়সা আত্মসাতের জন্যই তার স্বামীকে রফিকুল তার সহযোগীদের সহায়তায় হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)এর এসপি এ আর এম আলিফ হোসেন বলেন, পিবিআই মামলাটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় মাত্র এক সপ্তাহে ক্লুলেস একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে রফিকুলের অন্যান্য সহযোগীদের আমরা আটক করতে সক্ষম হবো।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ