নাসিরনগর-সরাইলে ঝড়ে শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত, একজনের মৃত্যু

নাসিরনগর-সরাইলে ঝড়ে শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত, একজনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৫ ৬ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৩ ৬ জুন ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও সরাইল উপজেলার উপর দিয়ে শনিবার সকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ে শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত গাছপালা।

এদিকে ঝড়ের সময় মো. সোহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বুড়িশ্বর থেকে নাসিরনগর যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। 

সোহেল মিয়া বুড়িশ্বর ইউপি পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য হাবিবা বেগমের দেবর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে বয়ে যাওয়া ঝড় নাসিরনগর উপজেলা সদরের ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, বুড়িশ্বর ইউপির আশুরাইল, বেনিপাড়া, ইছাপুরা, শ্রীঘর গ্রামে আঘাত হানে। 

এছাড়া সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউপির বুড্ডা, কুচনিসহ বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়।

সরাইলের বুড্ডা গ্রামের মো. দুলাল মিয়া জানান, পৌণে দশটার দিকে একটি ঘূর্ণির মতো কিছু আকাশে দেখা যায়। মুহূতেই এটি তাদের এলাকায় আঘাত হানে। এতে বুড্ডা গ্রামের অন্তত ১০-১৫ কাঁচা বাড়ি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

কুচনি গ্রামের গেজন মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, সকালে হওয়া ঝড়ে তাদের পাঁচ ভাইয়ের টিনের ঘর ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। এছাড়া তাদের বাড়ির আশেপাশের অনেক কাঁচা ঘরও ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকার অনেক গাছপালা।

নাসিরনগর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম জানান, তার ইউপির ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঝড়টি আঘাত হানে। ওই দুই ওয়ার্ডে প্রায় ৫০টির মতো ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে।

বুড়িশ্বর ইউপির সংরক্ষিত আসনের মেম্বার হাবিবা বেগম জানান, তার দেবর সোহেল মিয়া বাড়ি থেকে নাসিরনগর যাচ্ছিলেন। পথে ঝড়ের সময় কোনোভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ব্রাহ্মণাবাড়িয়া নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

বুড়িশ্বর ইউপি পরিষদের সদস্য নিহারা বেগম জানান, তার এলাকায় অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রচুর গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেখা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদেরকে জানানো হবে।

দুপুর ১২টার দিকে নাসিরনগরের ইউএনও নাজমা আশরাফী জানান, তিনি প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেই যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০০ বাড়িঘর ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে কাজ চলছে। সোহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ঝড়ের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর পেয়েছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এআর