নাসিমের অবস্থা ‘ডিপ ক্রিটিক্যাল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন 

নাসিমের অবস্থা ‘ডিপ ক্রিটিক্যাল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৭ ৬ জুন ২০২০   আপডেট: ২৩:৪৪ ৬ জুন ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থা ‘ডিপ ক্রিটিক্যাল’। তার চিকিৎসার জন্য ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। 

গত সোমবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর করোনা ধরা পড়ে। প্লাজমা থেরাপি দেয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শুক্রবার তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় ব্রেইন স্ট্রোক করায় অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। 

এই মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে আগের ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণের সময়সীমা বাড়িয়ে মোট ৭২ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না বলেও জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড ও চিকিৎসকরা।

গত শুক্রবার ব্রেইন স্ট্রোক ও তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচারের পর মোহাম্মদ নাসিমকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হককে প্রধান করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, নিউরো বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ।

শনিবার বিকেলে এই মেডিকেল বোর্ড জরুরি বৈঠকে বসে মোহাম্মদ নাসিমের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। বৈঠক শেষে হাসপাতাল চত্বরে ব্রিফিং করে নাসিমের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মেডিকেল  বোর্ড এর সদস্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, নাসিমের শারীরিক অবস্থাকে সার্বিকভাবে বলা যায় ‘ডিপ ক্রিটিক্যাল’। আগামীকাল কী হবে, সেটি এখনই বলা যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যাবে তাকে আরো কী চিকিৎসা দিতে হবে। তাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসাই দেয়া হচ্ছে।   

অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, করোনার পাশাপাশি তার আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার ছিল। এর ওপর ব্রেইন স্ট্রোক করার কারণে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরও অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল আছে। ডিপ কোমায় আছেন তিনি। কতটা সুস্থ হবেন তিনি, সময়েই তার জবাব পাওয়া যাবে।  

মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় সাংবাদিকদের বলেন, স্ট্রোকের ফলে তার মস্তিষ্কে এত বেশি রক্তক্ষরণ হয়েছে যে, অস্ত্রোপচারের পরও মাথার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। এমন অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলেই চিকিৎসকরা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বাবার সুস্থতা কামনা করে আবারও দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন তানভীর শাকিল জয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এসআই/এসএএম