নারায়ণগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এবার চলে গেলেন মা

নারায়ণগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এবার চলে গেলেন মা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১৯ ৩১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১২:৩৪ ৩১ মার্চ ২০২০

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকায় গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকে একটি বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণ হয়ে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ মারা গেছেন।

সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে গত ২৭ মার্চ ভোরে বিস্ফোরণে গৃহবধূর ৮ মাস বয়সী শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

 এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুটির বাবাসহ আরো দুই ভাই বোন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত গৃহবধূ ফেরদৌসী বেগম বাবুরাইল বটতলা এলাকার স্থানীয় ইট বালুর ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী।

আহত তোফাজ্জল হোসেনের খালাতো ভাই রাকিব উদ্দিন জানান, গত ২৭ মার্চ ভোরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তোফাজ্জল হোসেন ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম তাদের তিন সন্তান হালিমা বেগম, মোহাম্মদ হোসেন ও আট মাসের শিশু সন্তান আহাম্মদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তিন সন্তান নিয়ে ফেরদৌসী ছিলেন এক রুমে আর তোফাজ্জল হোসেন ছিলেন পাশের রুমে। 

ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে বিকট শব্দে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণ হলে দেয়াল ধসে পড়ে। এতে দেয়াল চাপা পড়ে পবিরারের পাঁচজনই গুরুতর আহত হন। তাদের ঘরের আসবাবপত্র সব চুরমার হয়ে যায়। 

বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাবাসী এসে আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আট মাস বয়সী শিশু আহাম্মদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে ফেরদৌসী বেগম ও তার দুই ছেলে মেয়েকে আইসিউতে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সোমবার দিনগত রাতে ফেরদৌসী বেগম মারা গেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকার সড়কের নিচে গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকেই তোফাজ্জল হোসেন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের বিস্ফোরণ হয়েছে। তাদের পাশের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকও বিস্ফোরণ হয়েছে তবে কেউ হতাহত হননি। 

এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের হোসেন জানান, এই গ্যাস পাইপ লিকেজের ব্যাপারে এর আগে তিতাস কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। তবে তারা সেটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যার কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাসে মানুষের ফেলা দেয়া বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে