নামাজি, অসহায়দের কাছ থেকে ভাড়া নেন না অটোচালক

নামাজি, অসহায়দের কাছ থেকে ভাড়া নেন না অটোচালক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২৯ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২০:০৪ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রতি শুক্রবার নামাজি যাত্রীদের ফ্রি গন্তব্যে নিয়ে যান ইজিবাইক চালক (টমটম) মো. ইবাদুর রহমান ইমন। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অসহায়, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ফ্রি সেবা দেন তিনি। 

তিন মাস ধরে ফ্রিতে এ সেবা দিয়ে আসছেন ইমন। বিষয়টি যাত্রীদের জানানোর জন্য ইজিবাইকের সামনে একটা স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তখনই বিষয়টি নজরে আসে সবার।

ইমনের ইজিবাইকের সামনে সাদা কাগজে লেখা- ‘অসহায়, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি সার্ভিস। প্রতি শুক্রবার নামাজি মুসল্লিদের জন্য ফ্রি সার্ভিস।’

ইজিবাইক চালক ইমনের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ফরেস্ট অফিস এলাকায়।  

ইবাদুর রহমান ইমন বলেন, ২০১৮ সালে আমার মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা করাতে পারিনি। আমার বাবা ঠেলাগাড়ি চালান। ছোটবেলা থেকে অভাব-অনটনে বড় হয়েছি। গরিবের দুঃখ-কষ্ট আমি বুঝি। অনেক কিছু করার স্বপ্ন ছিল আমার। কিন্তু সে অনুযায়ী সামর্থ্য নেই। যেটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে মূলত আমার এ উদ্যোগ। যদি অসহায় কোনো মানুষ আমাকে দিয়ে সেবা পান তবেই কষ্ট সার্থক।

জানা যায়, কমলগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন ইমন। অর্থের অভাবে আর লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। পরে ট্রাক চালকের সহযোগী হিসেবে ছিলেন বেশ কিছুদিন। এরইমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ট্রাক চালকের সহযোগী হতে পারেননি ইমন।

তিন মাস আগে ঠেলাগাড়ি চালক বাবা এবং দাদির কাছ থেকে কিছু টাকা নেন ইমন। এর সঙ্গে নিজের জমানো কিছু টাকা মিলিয়ে ৯১ হাজার টাকায় ইজিবাইক কেনেন। প্রথম দিন থেকে অসহায়, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ভাড়া ছাড়াই পৌর এলাকার বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দিতে শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতি শুক্রবার নামাজিদের ফ্রি সার্ভিস দেন ইমন।

ইমন বলেন, সারাদিন ভাড়া তুললে ৮০০-৯০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু আমি নিজের জন্য আয় করি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত। এ সময়ে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে নিজে চলি এবং সংসার চালাই।

ছেলের এমন কাজে অনেক খুশি ইমনের বাবা বাবলা মিয়া। ছেলেকে এ কাজে উৎসাহ দেন তিনি। এ নিয়ে অনেক সন্তুষ্ট বাবা-ছেলে।

ইমনের বাবা বাবলা মিয়া বলেন, আমাদের বাপ-বেটার সংসার। নিজে ঠেলাগাড়ি চালাই, ছেলে দিনে ফ্রি সার্ভিস দেয় আর রাতে আয় করে। এ আয় দিয়ে ভালোভাবেই চলে সংসার। আমাদের চাওয়া-পাওয়ার নেই। এভাবে চলতে পারলেই শুকরিয়া।

কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) রমুজ মিয়া বলেন, কয়েক মাস ধরে ফ্রি সার্ভিস দিচ্ছেন ইজিবাইক চালক ইমন। একজন ইজিবাইক চালকের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার। তার কাছ থেকে আমাদের শেখার আছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ