নাঙ্গলকোটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১৩ ৩১ মার্চ ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জেসমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউপির ছগরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় জেসমিনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। নিহত জেসমিন ওই ইউপির ঘাসিয়াল গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে। 

২০১১ সালে ছগরিপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে বাবলুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ের হয় জেসমিনের। তাদের জিহাদ (৬) ও মরিয়ম (৪) নামে দুটি সন্তানও রয়েছে।   

এক বছর আগে বাহারাইন প্রবাসী স্বামী বাবলুকে পাঠানো কিছু অন্তরঙ্গ ছবি গৃহবধূর মোবাইল থেকে ননদ তাসলিমা আক্তারের স্বামী ওয়াসিম চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছবি দিয়ে তাকে ও তার স্বামী বাবলুকে ব্লাকমেইল করতে থাকে ওয়াসিম। এ ঘটনা জানাজানি হলে শাশুড়ি আলেয়া বেগম, ননদ তাছলিমা ও তার স্বামী ওয়াসিমসহ পরিবারের লোকজন মিলে গৃহবধূ জেসমিনকে দফায় দফায় মারধর করে। 

এ ঝামেলা মেটাতে গত দেড়মাস আগে স্বামী বাবলু বাহারাইন থেকে দেশে আসেন। ৭ মার্চ বাবলু আবার বাহারাইন পাড়ি জমান। মঙ্গলবার দুপুরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।   

এ বিষয়ে নিহতের বাবা মানিক মিয়া ও ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, জেসমিনকে তার শাশুড়ি আলেয়া বেগম, ননদ তাসলিমা আক্তার, ননদের স্বামী ওয়াসিম, দেবর নজরুল, সাইফুল, বড় ননদের ছেলে রিয়াদ মিলে জেসমিনকে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করে হত্যাারীদের শাস্তির দাবি জানান।

এ ঘটনার পর পরেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে তাদের বাড়িতে গিয়েও কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে