Alexa নাগরিকত্বহীন ৩০ রোহিঙ্গাকে কারাদণ্ড দিলো মিয়ানমার

নাগরিকত্বহীন ৩০ রোহিঙ্গাকে কারাদণ্ড দিলো মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৪ ৫ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় ৩০ রোহিঙ্গাকে কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির এক আদালত। দণ্ডিত এসব রোহিঙ্গার মধ্যে ২০ জন নারী, ৯ জন পুরুষ ও ছয় বছর বয়সী এক ছেলে একটি শিশুও রয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাদেরকে আটক করা হয়। 

শুক্রবার আইয়ারওয়াদি অঞ্চলের নাগাপুদাউ টাউনশিপ আদালত ১৯৪৯ সালের মিয়ানমারের বাসিন্দা রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের এই শাস্তি প্রদান করে। 

বহু প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে বসবাস করে আসলেও মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। 

১৯৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এতে মিয়ানমারে বসবাসকারীদের সিটিজেন, অ্যাসোসিয়েট এবং ন্যাচারালাইজ্ড পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এমনকি দেশটির সরকার তাদের প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। 

১৮২৩ সালের পরে আগতদের অ্যাসোসিয়েট আর ১৯৮২ সালে নতুনভাবে দরখাস্তকারীদের ন্যাচারালাইজ্ড বলে আখ্যা দেয়া হয়। ওই আইনের ৪ নম্বর প্রভিশনে আরও শর্ত দেওয়া হয়, কোনও জাতিগোষ্ঠী রাষ্ট্রের নাগরিক কি না, তা আইন-আদালত নয়; নির্ধারণ করবে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সংস্থা ‘কাউন্সিল অব স্টেট’। এ আইনের কারণে রোহিঙ্গারা ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়।

মিয়ানমার পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর পাথেইন-নাগা ইয়োক কাউন সড়ক থেকে একটি মিতসুবিসি পাজেরো গাড়ি থেকে ৩০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তাদের কাছে নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণ ছিল না। পুলিশ গাড়িটি থামালে চালক পালিয়ে যায়।

তাদের আদালতে হাজিরের পর শুক্রবার নাগাপুদাউ টাউনশিপ আদালত ১৫ নারী ও ছয় পুরুষ রোহিঙ্গাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পাথেইন কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে নাগহাট আও ইয়োথ ট্রেনিং সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাখাইনের দক্ষিণে অবস্থিত উপকূলীয় শহর নাগা ইয়োক কাউন। সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, দালালদের মাধ্যমে বহু রোহিঙ্গা নৌকা ও সড়কপথে এই শহরে আসা অব্যাহত রেখেছে। ওই ৩০ রোহিঙ্গাকে আটক করতে দেখা এক বাসিন্দা বলেছেন, সম্ভবত এসব রোহিঙ্গা রাখাইন ছাড়তে নৌকায় করে এসেছিল। তাদের নিতে অপেক্ষা করছিল একটি মিনিবাস।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী