নরসিংদীতে জ্বর-শ্বাসকষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নরসিংদীতে জ্বর-শ্বাসকষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:২২ ৩ জুন ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নরসিংদীর কোভিড হাসপাতালের আইসোলেশনে জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টে বুধবার সকালে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।    

জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ওই ব্যবসায়ী জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতে তার অবস্থা অবনতি হলে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বুধবার সকালে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ফলাফল আসার পর বলা যাবে তিনি করোনা পজিটিভ নাকি নেগেটিভ ছিলেন। তার মরদেহ করোনা প্রতিরোধ সেলের কুইক রেসপন্স টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নরসিংদী করোনা প্রতিরোধ সেলের কুইক রেসপন্স টিমের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া বলেন, করোনা উপসর্গে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে আমাদের কুইক রেসপন্স টিম জেলা হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণ করে। পরে দুপুরে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে,স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্বল্প সংখ্যক লোকজন নিয়ে জানাজা পড়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি। 

এদিকে সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহে ১৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। 

মঙ্গলবার রাতে সেসব নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এতে নতুন আরো ৫১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৫১ জনের মধ্যে ৩৭ জন নরসিংদী সদর উপজেলার , ৩ জন পলাশ উপজেলার , ২ জন মনোহরদী উপজেলার , ৫ জন শিবপুর উপজেলার ও ৪ জন বেলাব উপজেলার।

বুধবার পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে মোট ৪ হাজার ৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬১৪ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে। জেলায় সংক্রমিতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৩১ জন, রায়পুরাতে ৪১ জন, শিবপুরে ৪২ জন, বেলাবোতে ৪১ জন, পলাশে ৪৩ জন ও মনোহরদীতে ১৬ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২১২ জন, আক্রান্ত ২৮ জন হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন, আর ৩৬৭ জন আইসোলেশনে আছেন বাড়িতে।

আর এখন পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন মোট ৭ জন, এরমধ্যে নরসিংদী সদরের ৫ জন, পলাশের ১ জন ও বেলাব উপজেলার ১ জন।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. ইব্রাহীম টিটন বলেন, বর্তমানে নমুনা সংগ্রহের হার বাড়ার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। নতুন করে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের পরিবারের সদস্য ও সংস্পর্শে আসা লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতেও বাধ্য করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ