নমুনা দেয়ার পর আট প্রসূতির অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসক

নমুনা দেয়ার পর আট প্রসূতির অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩৪ ৪ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২১:৪৩ ৪ জুলাই ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কুষ্টিয়ায় সফর আলী নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা দিয়ে কোনো স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আট প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের হাতে অস্ত্রোপচার হওয়া প্রসূতি ও নবজাতকদের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, গত বুধবার ওই চিকিৎসক করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা দেন। এর পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিনভর অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। ওই দিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে তিনি অন্তত আটটি প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন। ওই দিন রাতেই চিকিৎসকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। 

সফর আলী গোপালগঞ্জে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (গাইনি)। তার বাড়ি কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলায়।

এ ব্যাপারে চিকিৎসক সফর আলী বলেন, পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার খবর জানার পরপরই অস্ত্রোপচার কক্ষ ছেড়ে বাড়ি চলে আসি। তবে আমার শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ নেই। হালকা জ্বর ছিল, সেটাও নেই। অস্ত্রোপচার করা রোগীরা ভালো আছে। তাদেরও কোনো সমস্যা নেই।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত ফলাফল পাঠানো হয়। এতে সফর আলীকে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি রাতেই চিকিৎসক সফর আলীকে ফোনে জানিয়ে দেয়া হয়। গত বুধবার সকালে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন তিনি।

নমুনা দেয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সফর আলী দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে অন্তত আটটি প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফটকসংলগ্ন তিনটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেছেন। এ ছাড়া তিনি ঝাউদিয়া বাজার ও আল্লাদরগা বাজার এলাকার ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মায়ের হাসি ক্লিনিকের মালিক সায়েম হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ও রাত ৯টায় দুবার চিকিৎসক সফর আলী এ ক্লিনিকে দুজন প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন। এসব মা ও শিশু সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নমুনা দেয়ার পর তার অস্ত্রোপচারে আসা ঠিক হয়নি।

একাধিক সূত্র জানায়, সফর আলী গোপালগঞ্জে কর্মরত থাকলেও প্রায় সময় দৌলতপুরে থাকেন। দৌলতপুরে বিভিন্ন ক্লিনিকের সঙ্গে তিনি চুক্তিবদ্ধ।

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত হোসেন বলেন, এ কলেজে নির্দিষ্ট কয়েক দিন দায়িত্ব পালনের পর চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। সেটা হোটেল বা বাসায় হয়ে থাকে। সফর আলী বাসায় গিয়ে থাকলেও তার কোয়ারেন্টাইনে থাকা উচিত ছিল। আর নমুনা দেয়ার পর কোনোভাবেই প্রসূতির অস্ত্রোপচার করা ঠিক হয়নি। এটা তিনি করতে পারেন না।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ওই সব মা ও শিশু এবং ক্লিনিকগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ