Alexa নভেম্বরে চুল-দাড়ি কাটবেনা ছেলেরা, কেন জানেন?

নো শেভ নভেম্বর

নভেম্বরে চুল-দাড়ি কাটবেনা ছেলেরা, কেন জানেন?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৭ ২৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৩:২৯ ২৮ অক্টোবর ২০১৯

নো শেভ নভেম্বর

নো শেভ নভেম্বর

শেষ হচ্ছে অক্টোবর। এ মাসের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ‘ইংকটোবার চ্যালেঞ্জ’। বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের কার্টুনপ্রেমীদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়। এটি মূলত একমাসব্যাপী ছবি আঁকার চ্যালেঞ্জ, যেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কালি ও কলমে ছবি আঁকতে হয় এবং #inktober লিখে অনলাইনে পোস্ট করতে হয়।

শুক্রবার থেকেই শুরু নভেম্বর মাস। এই মাসে দাড়ি না কামিয়ে ‘নো শেভ নভেম্বর’ পালন করার রেওয়াজ এখন চলছে গোটা বিশ্বেই। যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে গেলেই  #NoShaveNovember, #RazorFree, #NoGrooming হ্যাশট্যাগ চোখে পড়ে। অর্থাৎ নভেম্বর মাস আসার মানে হলো ছেলেরা তাদের দাড়ি এবং গোঁফ শেভ করা ছেড়ে দিতে হবে এবং সেই সঙ্গে এগুলো সুন্দরমতো গজিয়ে সবাইকে দেখাতে হবে। এটা এখন ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে, অনেকেই এর নেপথ্য গল্প জানেনই না।

কেন পালন করা হয়?

‘‌নো শেভ নভেম্বর’ বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ক্যানসার সচেতনতার ঘটনা। ২০০৭ সালে দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পরে মারা যান শিকাগোর বাসিন্দা ম্যাথু হিল। তার স্মরণে ম্যাথুর পরিবার একটি সচেতনতা অভিযান শুরু করেন। যেহেতু দাড়ি রাখলে ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা বাড়ে, তাই গোটা নভেম্বর মাস জুড়ে পুরুষদের দাড়ি না কেটে ক্যানসারের বিরুদ্ধে বার্তা দেয়ার পরিকল্পনা করেন তারা।

ট্রেন্ডটি এখন সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়

গোটা প্রচার অভিযানের নাম হয় ‘‌নো শেভ নভেম্বর।’‌ আস্তে আস্তে গোটা আমেরিকাতেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই প্রচার অভিযান। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে নভেম্বর মাস। সেই সঙ্গে শুরু হবে ‘‌নো শেভ নভেম্বর’‌ পালনও। কিন্তু কথা হলো, এত এত ট্রেন্ড থাকতে দাড়ি না কাটার ট্রেন্ডটাই বাঁছাই করলো কেন? আর দাড়ি না কাটার সাথে ক্যানসারের চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহের সম্পর্ক কী?

অনেকেই হয়তো জানেন, খাদ্য পরিপাক যন্ত্রের বৃহদন্ত্রে হওয়া একটি ক্যানসার হচ্ছে ‘কোলন ক্যানসার’। সাধারণত পুরুষদেরই এই ক্যানসার বেশি হয়। ম্যাথু হিলের পরিবার তখন এমন একটি ট্রেন্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নিলো যেখানে পুরুষরা একমাসের জন্য তাদের দাড়ি-গোঁফ ছাটা বন্ধ করে দিবে। এই সময়টায় সেলুনে যাওয়ার পেছনে তাদের যে অর্থ ব্যয় হতো, তা ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যয় করবে। অর্থাৎ, একমাসের সেলুন বিল বাঁচিয়ে তারা সেই অর্থ দান করে দিবে। এটাই হলো নো শেভ নভেম্বরের মূল উদ্দেশ্য।

ফান্ড গঠন করা হয়

কিন্তু এই উদ্দেশ্যটা আমরা ক’জন জানি? চুল-দাড়ি না ছাটিয়ে স্যোশাল মিডিয়াতেই শুধু অ্যাক্টিভ! নো শেভ নভেম্বর চ্যালেঞ্জ অবশ্য অর্থ সংগ্রহের দিক থেকে কম সাফল্য পায়নি। ২০০৯ সালেই ক্যানসারের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহের জন্য শিকাগোল্যান্ড হিলের পরিবারটি একটি অনলাইনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা তৈরি করে। এর নাম ‘নো শেভ নভেম্বর’। অর্থাৎ ট্রেন্ডের নামেই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। এখানে চাইলেই আপনি একমাস সেলুনে না গিয়ে যে অর্থ জমিয়েছিলেন তা দান করে দিতে পারেন ক্যানসারের চিকিৎসার স্বার্থে। এমনকি নিজের নামে সেখানে রেজিস্ট্রেশন করে নিজ এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারেন ক্যানসারের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহের জন্য। এরপর সেই অর্জিত অর্থ দান করে  দিবেন নো শেভ নভেম্বরের অ্যাকাউন্টে।

চুল-দাঁড়ি না ছাটিয়ে স্যোশাল মিডিয়াতেই শুধু অ্যাক্টিভ থাকেন অনেকে

‘নো শেভ নভেম্বর’ সারা বিশ্বে এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে অনেক মেয়েও এই ট্রেন্ডের অংশ হতে চায়। কিন্তু দাড়ি না থাকায় তারা তো এর নিয়ম মেনে চলতে পারে না। অনেকের আবার চাকরির খাতিরে নিয়মিত শেভ করতে হয়। তাদের জন্য এই ট্রেন্ডের অংশ হওয়া বেশ সমস্যাই বটে। সেক্ষেত্রে তারা শেভ না করে নো শেভ নভেম্বরের ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনে সাহায্য করতে পারেন। নারীরা চাইলে পেডিকিউর এবং মেনিকিউরের পিছনে একমাসে বিউটি পার্লারে গিয়ে যে অর্থ খরচ করতেন, তা ক্যানসারের চিকিৎসায় দান করে দিতে পারেন।

এক ঢিলে দুই পাখি

দাড়ি-গোঁফ রাখার স্টাইল কিন্তু আজকের নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখতে পাবেন ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকেই দাড়ি রাখা হয়ে ওঠে নতুন ফ্যাশন। তারপর থেকে সময় যত এগোতে শুরু করে, তত এই ফ্যাশনের পালে হাওয়ার তেজ বাড়তে থাকে। এক সময়ে গিয়ে তো দাবানলের চেহারা নেয় এই নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট। যার আঁচ থেকে বাদ যাননি আমেরিকার সে সময়কার রাষ্ট্রপতিরাও! তা সে আব্রাহাম লিঙ্কন হোন কি এস গ্রান্ট, সবার সে সময় দাড়ি রাখতে খুব পছন্দ করতেন।

ফ্যাশন হিসেবে দাড়ি রাখার ট্রেন্ডে ভাটা পড়া শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় থেকে। আসলে সে সময় ক্লিন শেভ রাখার চল শুরু হলো। ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সমকালীন পুরুষদের মধ্যে দাড়ি রাখার প্রবণতা সেভাবে চোখে পরেনি। তবে ক্লিন শেভ লুক বেশিদিন জনপ্রিয়তার স্বাদ পায়নি। ফিরে এসেছে সেই দাড়ি রাখার চলই। আর এখন তো কোনো কথাই নেই। তরুণদের মতে, আজকাল তরুণীরা দাড়ির ফ্যান! তাই তো ক্লিন শেভ মোটে নয়! এটা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো বিষয়।

দাড়ি-গোঁফ রাখার স্টাইল অনেক পুরনো

উপকারও কি কম?

দাড়ি-গোঁফ রাখা নাকি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, এমনটাই মনে করেন একদল বিজ্ঞানী। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘদিন দাড়ি রাখলে তাতে নানবিধ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জমতে শুরু করে। ফলে সেই ব্যাকটেরিয়ারা এক সময় হাত হয়ে পৌঁছে যায় মুখে। বাড়ে সংক্রমণের আক্রমণে জর্জরিত হওয়ার আশঙ্কা। তবে আরেকদল বিজ্ঞানী মনে করেন, দাড়ি রাখার একাধিক উপকারিতাও আছে।

* বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দাড়ি থাকলে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের সেভাবে ক্ষতি করতে পারে না, যতটা ক্লিন শেভ থাকলে করে থাকে। আর একথার নিশ্চয় সবাই জানেন যে ‘ইউ ভি’ রশ্মির সংস্পর্শ থেকে ত্বক যত দূরে থাকবে, তত ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পাবে। 

* ডাস্ট অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন? তাহলে দাড়ি রাখার কথা ভাবতেই পারেন। কারণ পরিবেশ উপস্থিত ডাস্ট পার্টিকালসগুলি যাতে নাকের মাধ্যমে শরীরের অন্দরে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে দাড়ি। আসলে দাড়ি হল একটা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা ভেদ করে ধুলো-বালির পক্ষে শরীরে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।

* অনেকেই মনে করেন দাড়ি রাখলে বুড়ো দেখায়। ধরণাটি একেবারে ভুল। আলট্রাভায়োলেট রশ্মির আঘাত কম লাগার কারণে যাদের দাড়ি রয়েছে, তাদের ত্বকের ক্ষয় কম হয়। ফলে কম বয়সীদের মতো দেখতে লাগে। তাছাড়া তাপমাত্রা যখন কমতে থাকে, তখন শরীরকে গরম রাখতে দাড়ি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

* ত্বক বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করে দেখেছেন দাড়ি থাকলে ত্বকের আদ্রতা সহজে হারায় না। কারণ এক্ষেত্রে দাড়ি অনেকটা রক্ষাকবচের কাজ করে থাকে। ফলে সহজে স্কিন ড্রাই হয়ে যায় না। তাই তো যারা সারা বছরই কম-বেশি ড্রাই স্কিনের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তারা দাড়ি রাখার কথা ভাবতেই পারেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে