নববধূকে ধর্ষণের পর হত্যা, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ব্যর্থ প্রেমিক

নববধূকে ধর্ষণের পর হত্যা, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ব্যর্থ প্রেমিক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ৪ জুন ২০২০  

নিহত কেয়া খাতুন

নিহত কেয়া খাতুন

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রথমে পালাক্রমে ধর্ষণ, পরে মাথায় আঘাত করে হত্যা ও লাশ মাটিচাপা দেন প্রেমিক ও তার দুই বন্ধু।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এভাবেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের দাদপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর কেয়া খাতুন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন প্রেমিক মিলন ও তার দুই বন্ধু আজিম ও ইসরাফিল।

পুলিশ জানায়, ১৩ মার্চ দাদপুর গ্রামের একটি সড়কের পাশ থেকে মাথার চুলসহ ক্লিপ ও একটি স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এরপর গ্রামের মাঠের মধ্যে থেকে কলাগাছ ও গাছের পাতার নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা ধর্ষণের শিকার কেয়ার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, কেয়া খাতুন ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। লাশ উদ্ধারের তিন মাস পর গ্রেফতার করা হয়েছে কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুরের সোলায়মান হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন, আসাদুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল ও আজগর আলীর ছেলে আজিমকে।

ধর্ষক মিলন, আজিম ও ইসরাফিল

ঝিনাইদহের এসপি মো. হাসানুজ্জামান জানান, লাশ উদ্ধারের পর হত্যার উদ্দেশ্য জানতে ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তদন্তে নামে পুলিশ। ক্লু-লেস এ মামলার তদন্তে নেমে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। কেয়ার বিয়ের আগে ও পরে নানা ঘটনার পর্যালোচনায় জানা যায়, কেয়ার সঙ্গে তিন বছর আগে থেকে মিলন হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরিবার থেকে একই উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাইক্রোবাসচালক সাবজাল হোসেনের সঙ্গে কেয়ার বিয়ে দেয়া হয়। এতে মিলন হোসেন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন- এমন সন্দেহে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এলাকায় ছদ্মবেশে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ১৬ মার্চ জীবননগরের হাসাদাহ এলাকা থেকে মিলনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন মিলন। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তার সঙ্গে ইসরাফিল ও আজিম জড়িত বলে জানান তিনি।

এসপি জানান, মিলন গ্রেফতার হওয়ার পর ইসরাফিল ও আজিম গা ঢাকা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরাফিলকে ২৭ মার্চ গ্রেফতার করলে তিনিও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। দীর্ঘ তিন মাসের চেষ্টায় মঙ্গলবার কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনিও।

এসপি আরো জানান, প্রেমে ব্যর্থ হয়েই দুই বন্ধুর সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন মিলন। পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন- ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় কেয়া খাতুনকে তার বাবার বাড়ি থেকে ডেকে দুই কিলোমিটার দূরের একটি মাঠে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন মিলন, আজিম ও ইসরাফিল। এরপর বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা ও সড়কের পাশে মাটি চাপা দিয়ে কলাগাছ ও কলাপাতা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর