নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মুলাদীর বিস্তীর্ণ এলাকা

নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মুলাদীর বিস্তীর্ণ এলাকা

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১০ ১৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৬:১১ ১৪ আগস্ট ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় অব্যাহত নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। 

উপজেলার জয়েন্তী, আড়িয়াল খাঁ, ছৈলা ও নয়া ভাঙ্গলী নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। নদী ভাঙনে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। 

জয়েন্তী ও ছৈলা নদীর ভাঙনে উপজেলার উত্তর চরগাছুয়া, কৃষ্ণপুর, ঘোলঘর, চরমালিয়া, ব্রজমহন, বালিয়াতলী, ঘুলিঘাট, সেলিমপুর, আলিমাবাদ ও ভাঙ্গারমোনা গ্রামগুলো বিলিন হতে চলেছে। 

আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে নাজিরপুর, রামারপোল, কাজিরচর, সাহেবেরচর, বানীমর্দন, নবাবেরহাট, নন্দিরবাজার, চিলমারী, পশ্চিম চরকালেখান, পাতারচর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে অনেক পরিবার। 

এলাকাবাসী জানায়, ২০১৯ সালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বাটামারা ও সফিপুর ইউপির দুটি গ্রামে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেন। দুর্বৃত্তরা অবৈধভাবে নদী থেকে বালু তুলে ও নদীর পাড়ের মাটি বিক্রি করায় নদী ভাঙন বেড়েই চলছে। 

ছৈলা, জয়েন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনরোধ না করলে পাল্টে যাবে মুলাদী, নাজিপুর, সফিপুর, বাটামারা ও রামচরসহ কয়েকটি গ্রামের চিত্র। নাজিরপুর ইউপির পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিম পাশে নদীতে ফেলা সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

এছাড়াও বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে সফিপুরের ব্রজমহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজ, নাজিরপুর ইউপির চর নাজিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাটামারা ইউপির এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য হাট-বাজার। 

ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ খান, প্রবীণ শিক্ষক বাচ্চু ভূঁইয়া ও রাজনীতিক ইমরান হোসেন ভূঁইয়া জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না করলে অচিরেই উপজেলার অনেক গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অব্যাহত নদী ভাঙনের হাত থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষার জন্য নদীতে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে