নতুন রূপে পতেঙ্গা সৈকত, ছাড়িয়ে গেছে কক্সবাজারকেও

নতুন রূপে পতেঙ্গা সৈকত, ছাড়িয়ে গেছে কক্সবাজারকেও

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪২ ২০ মে ২০১৯  

নতুন রূপে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

নতুন রূপে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পুরোপুরি বদলে গেছে আগের পরিবেশ। ‘নতুন অবস্থান’ সৌন্দর্যপিপাসুদের নিয়ে যাচ্ছে আনন্দ উপভোগের অনন্য উচ্চতার আরেক স্থানে। সাগর, নদী ও পাহাড়ের অপরূপ পরিবেশে চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রামের পতেঙ্গাসংলগ্ন সমুদ্র সৈকত নব আঙ্গিকে আবির্ভূত হয়েছে পর্যটকদের জন্য। এসব কারণে ঈদে ঘোরার পরিকল্পনায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকেও তালিকায় রাখতে পারেন।

পতেঙ্গায় সমুদ্র তীরে হাঁটার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে। তীরজুড়ে ফুলের বাগান। বসানো হয়েছে ছোট ছোট বিশ্রাম চেয়ার এবং রঙ-বেরঙের পাথর। গড়া হয়েছে শিশুদের জন্য নানা রাইড। বসার স্থান, হাঁটার পথ ও সবুজ বাগান করা হয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে আগের তুলনায়। রাতেও আলোয় ঝলমল থাকে পুরো সমুদ্র তীর।

এ কারণে পর্যটক বেড়েছে বহুগুণে। প্রতিদিনই সৈকতে যেন হাজারো মানুষের মিছিল নামে। তাদের অনেকের মুখে মুখেই ছিল—সৌন্দর্যবর্ধনের দিক থেকে এ সৈকত ছাড়িয়ে গেছে কক্সবাজারকেও। পর্যটক সাদিয়া আলম বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সৈকত হলেও অবকাঠামোগতভাবে তেমন উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু কয়েক দিন আগে ফেসবুকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের ছবি দেখে বিস্মিত হয়েছি। দর্শনার্থীদের জন্য এত সুযোগ-সুবিধা কল্পনার বাইরে ছিল। তাই চলে এলাম।

কেউ কেউ ওয়াকয়ের নিচে নেমে সমুদ্রের বালুচরে হেঁটে বেড়ান। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পানিতে গোসল করছেন মনের আনন্দে। বাগানে ফোটা ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছেন সমুদ্রের বিশালতা। স্পীড বোটে চড়ে চক্কর দিচ্ছেন সমুদ্রে। অন্যদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ কমিউনিটি পুলিশকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

সৈকতে পর্যটক বেড়েছে বহুগুণ

প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। সূর্যাস্ত দেখার জন্য সুযোগ রয়েছে এখানে, তেমনি স্পিডবোটে চড়ে চলে যাওয়া যায় সাগরের অনেক গভীরে। তবে এখন পর্যন্ত পর্যটকবান্ধব কোনো কাঠামো গড়ে না ওঠায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় দর্শনার্থীদের।

সমুদ্র সৈকতের সাথেই ঝাউবনের ছায়াতলে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকানসহ অনেক দোকান-পাট। ঝাউবন ঘেঁষে উত্তর দিক বরাবর হেঁটে গেলে বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলি নদীর মোহনার দেখা পাওয়া যায়। এছাড়া খুব কম খরচে সুস্বাদু, জিভে জল আনা স্ট্রিট ফুডের জন্য পতেঙ্গা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মসলা দিয়ে ভাজা কাঁকড়ার কথা না বললেই নয়, যা শসা ও পেঁয়াজ দিয়ে সাজানো এক প্লেট ছোলার সঙ্গে পরিবেশিত হয়। সৈকতে একটি বার্মিজ মার্কেটও গড়ে উঠেছে। সেখানেও ঘুরে ফিরে পছন্দের কেনাকাটা সেরে নেয়া যায়।

সৈকতের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে সৈকতে আসা জনসাধারণের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি টিম ডিউটিতে থাকে। এছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ কমিউনিটি পুলিশ কাজ করে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সাদা পোশাকে ডিউটি ও ফোর্সের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হয় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

নির্দেশনা

সড়ক পথে যেতে চাইলে অলংকার মোড়, এ কে খান হয়ে সরাসরি চলে যেতে পারবেন সৈকতে। সি-বিচ লেখা বাসগুলোতে চেপে বসলেই হবে শুধু। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে সিএনজি ও অটোরিকশা নিয়েও যাওয়া যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে