নতুন প্রাণঘাতি হান্টাভাইরাস কী ও কীভাবে ছড়ায়

নতুন প্রাণঘাতি হান্টাভাইরাস কী ও কীভাবে ছড়ায়

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:২৪ ২৫ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১০:৪৬ ২৫ মার্চ ২০২০

ইঁদুর প্রজাতির প্রাণী থেকে এ ভাইরাস ছড়ায়

ইঁদুর প্রজাতির প্রাণী থেকে এ ভাইরাস ছড়ায়

করোনাভাইরাসের পর চীনে এবার হান্টাভাইরাসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ইঁদুর প্রজাতির প্রাণী থেকে এ ভাইরাস ছড়ায় বলে জানা গেছে। অঞ্চলভেদে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন- চীনে হানতাভাইরাস, আমেরিকায় ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’; অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা ‘ওল্ড ওয়ার্ল্ড হান্টাভাইরাস’ নামে চেনেন।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হান্টাভাইরাসের একটি ছোট প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। সেই সময় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ইঁদুরের মূত্র, লালা বা মলের মাধ্যমে এ ভাইরাস মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে মানুষ থেকে মানুষের শরীরে এর সংক্রমণের কোনো প্রমাণ নেই।

জানা যায়, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই ধরনের লক্ষণ দেখা দিয়ে পারে। ফুসফুসজনিত উপসর্গ (এইচপিএস) ও মুত্রাশয়জনিত উপসর্গ (এইচএফআরএস)। ফুসফুসজনিত উপসর্গের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ক্লান্তি, জ্বর এবং উরু, পশ্চাতদেশ, পিঠ, কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা হতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তি মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, ঠাণ্ডা লাগা এবং পেটের সমস্যায়ও ভুগতে পারে। লক্ষণগুলো চার থেকে ১০ দিন পর দেখা দিতে পারে।

মুত্রাশয়জনিত উপসর্গ দেখা দিলে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণগুলোর বিকাশ ঘটে। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, পিঠ ও পেটব্যথা, জ্বর, সর্দি, বমি বমি ভাব এবং ঝাপসা দৃষ্টি। অন্যদিকে, দেরিতে দেখা দিলে নিম্ন রক্তচাপ, তীব্র শক, রক্তনালীতে ছিদ্র ও তীব্র কিডনির ফেইলিউর হতে পারে।

সাবধানতা হিসেবে ইঁদুরের সংস্পর্শে আসার পর চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেসব এলাকায় ইঁদুর প্রজাতির প্রাণী নেই, সেখানে হান্টাভাইরাস না থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে