নওগাঁয় পাতি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

নওগাঁয় পাতি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

নওগাঁ প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৫ ২৩ মে ২০২০   আপডেট: ১৮:৩৬ ২৩ মে ২০২০

নওগাঁয় পাতি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

নওগাঁয় পাতি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

নওগাঁর রাণীনগরে চলতি রবিশস্য মৌসুমে ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা, বাদাম এবং বিভিন্ন শাক-সবজির পাশাপাশি দিনদিন চাষিরা পাতি চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। জৈষ্ঠ্য মাসের আগে ওই এলাকার চাষিদের সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তেমন বিক্রয়যোগ্য কোনো ফসল না থাকায় তারা এ চাষের দিকে ঝুঁকছে।

অসময়ের বন্ধু হিসেবে খ্যাত অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে এখন পাতি কাটা ও শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে পাতি চাষিরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগে তেমন কোনো ক্ষতি না হওয়ায় এবং স্বল্প পরিমাণ বালাই নাশক প্রয়োগে, উৎপাদন ব্যয় কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় ইরি-বোরো ধান চাষের আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে বনপাতি ও জলপাতি চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা।  

একসময় এই জনপদে পাতি চাষ তেমন হতো না। বর্তমানে চাহিদা বেশি থাকায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ পাতি চাষ করেছে উপজেলার কৃষকরা। 

সরকার থেকে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য কৃষি উপকরণ, বীজ, রাসায়নিক সার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হলেও পাতি চাষের জন্য প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হয় না।  

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউপিতে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে বনপাতি ও জলপাতি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে চলতি বছরে উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাতির আবাদ হয়েছে। তবে মিরাট, গোনা, কাশিমপুর, রাণীনগর সদর, কালীগ্রাম ও পারইল ইউপিতে সবচেয়ে বেশি পাতি চাষ হয়েছে। 

পাতি কাটার মৌসুমে মানসম্পূর্ণভাবে শুকাতে পারলে প্রতি বিঘা জমির প্রায় ৭০ হাজার টাকার পাতি বিক্রয় হবে।

উপজেলার পারইল ইউপির বোদলা গ্রামের পাতি চাষি হেলাল মণ্ডল জানান, আমি প্রতি বছরই ধানের পাশাপাশি পাতি চাষ করি। চৈত্র মাস থেকে শুরু করে ইরি ধান ঘরে তোলার আগেই পাতি বিক্রয় করে আমার সংসারের প্রয়োজনীয় সমস্যাগুলো সমাধান করি। চলতি মৌসুমে এক বিঘাতে পাতি চাষ করেছি। এরইমধ্যে প্রথম কাটা শেষ করে পাতিগুলো রোদে শুকানোর কাজ চলছে। 

তিনি আরো জানান, আবহাওয়া ভাল থাকায় জমিতে পাতি ভাল হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৮টি ইউপির মধ্যে ৪/৫টি ইউপিতে বিগত বছরের তুলনায় বেশি পাতি চাষ হয়েছে। কুটির শিল্পের মাদুর তৈরির প্রধান উপকরণ পাতি। পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা আছে। এছাড়া লাভ বেশি হওয়ার কারণে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাতি চাষ করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ