ধ্বংসের পরও অলৌকিকভাবে ক্রুশ চিহ্নে ভরে যায় পাহাড়টি!

ধ্বংসের পরও অলৌকিকভাবে ক্রুশ চিহ্নে ভরে যায় পাহাড়টি!

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫৪ ২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৩২ ২ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ক্রুশ চিহ্নের পাহাড়। যেদিকেই তাকাবেন সেদিকেই ক্রুশ চিহ্ন। পৃথিবীর আর কোথাও এমন ক্রুশ চিহ্নের পাহাড় খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনেকবার চেষ্টা করেছেন ক্রুশ চিহ্নগুলো সরিয়ে ফেলতে। 

তবে কোনো কাজ হয়নি। সরিয়ে ফেলার কিছুদিন পরই আবার জায়গাটি ক্রুশ চিহ্নে ভরে যায়। এমনই এক রহস্যজনক স্থান হলো লিথুয়ানিয়ার হিল অব ক্রসেস। বর্তমানে পাহাড়টিতে প্রায় দুই লাখ ক্রুশ চিহ্ন রয়েছে। 

ক্রস চিহ্ন১৮৩১ সালে রাশিয়ার বিদ্রোহের পর থেকে হঠাৎই ক্রসগুলো সবার নজরে আসতে থাকে। জানা যায়, বিদ্রোহে নিহত আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের কবর দেয়ার মতো কোনো লাশ না পেয়ে পাহাড়ের উপরে ক্রস এবং ক্রুশবিদ্ধ করেন লিথুয়ানিয়ানরা। পরবর্তীতে রাশিয়াদের দখলকালে পাহাড়টি দু’বার ধ্বংস করা হয়। কারণ সে সময় খ্রীষ্ট ধর্ম নিষিদ্ধ ছিল। 

ক্রুশবিদ্ধ যীশুরাশিয়ান এজেন্টরা এলাকায় টহল দিলেও লিথুয়ানিয়ানরা এই পাহাড়ে লুকিয়ে প্রোণের ঝুঁকি নিয়ে আবারো ক্রসগুলো লাগিয়ে রেখে দেয়। সবশেষ ১৯৮৫ সালেও ধ্বংসযজ্ঞ চলে পাহাড়ে। ১৯৯১ সালে লিথুয়ানিয়া যখন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল তখন পাহাড়টি লিথুয়ানিয়ানদের পরিচয়, ধর্ম এবং ঐতিহ্যের পরিচয় দেয়। খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা যীশু খ্রীষ্ট্রের প্রার্থনা করতে তীর্থযাত্রায় যান দ্য হিল অব ক্রসেসে। 

প্রায় দুই লাখ ক্রস চিহ্ন রয়েছে পাহাড়টিতেক্রুশ সম্পর্কিত একটি মিথ রয়েছে লিথুয়ানিয়ায়। এক কৃষকের সঙ্গে সম্পর্কিত গল্পটি। যার কন্যা অত্যন্ত অসুস্থ ছিল। এক রাতে কৃষক স্বপ্নে দেখেন এক সাদা পোশাক পরিহিতা নারী তাকে কাঠের একটি ক্রস চিহ্ন তৈরি করে কাছের পাহাড়ে রেখে আসতে বলেন। শর্ত দেয়া হয়, যদি কৃষক স্বপ্নে দেখা নারীর কথা মতো কাজ করেন তবে তার মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবে। এরপর কৃষক মেয়েকে বাঁচাতে স্বপ্নাদেশ অনুসারে কাজ করলেন। তার মেয়ে অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে সবাই না-কি নিজেদের বিপদ ও রোগব্যাধির সুস্থতা কামনায় পাহাড়ে গিয়ে ক্রস চিহ্নগুলো রেখে যায়।

তীর্থস্থানহিল অব ক্রসেস এর সবচেয়ে বিখ্যাত একটি ভাস্কর্য হলো যীশু খীষ্ট্রের একটি মূর্তি। যেটি ছাদের নীচে বসে রয়েছে। কথিত আছে, মূর্তিটি গোপনে যিশুর উপাসনা করার প্রতীক। এই ভাস্কর্যটি সেই সময়কাল প্রতিফলিত করে যখন লিথুয়ানিয়ায় ধর্ম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে পোপ জন পল (দ্বিতীয়) যখন লিথুয়ানিয়া পরিদর্শন করেন উক্ত স্থানটিকে তিনি প্রত্যাশা, শান্তি, প্রেম এবং ত্যাগের জায়গা হিসাবে ঘোষণা করেন।

যীশু গোপনে ধর্মচর্চা করছে, এমনই এক ভাষ্কর্য এটিস্থানীয়রা বলেন, যেভাবে বিভিন্ন উপায়ে লিথুয়ানিয়ানরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল তারই চিত্র তুলে ধরে এখানকার ক্রুসগুলো। ৪ থেকে ৫ বার এটি ধ্বংস করে দেয়ার পরও প্রত্যেকবার এটি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের একটি অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত হিল অব ক্রসেস। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা ঘটে স্থানটিতে। কেউ যান ধর্মচর্চায় কেউ আবার মনবাসনা পূরণে।

সদ্য বিবাহিত দম্পতিরা স্থানটিতে যীশুর আশির্বাদ নিতে হাজির হনবিয়ের পর নতুন দম্পতিরা পাহাড়টিতে যীশুর আশির্বাদ নিতে যান। শিশু জন্মের পর অনেকেই নবজাতকের দীর্ঘ জীবনের প্রত্যাশায় সেখানে নিয়ে যান। আবার অনেকেই আসেন প্রার্থনা বা মনের প্রশান্তির জন্য। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিবছর কয়েক লাখ দর্শনার্থী আসেন লিথুয়ানিয়ার এই ক্রুসের পাহাড়ে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস