Alexa ধানের চারার ভাসমান হাট

ধানের চারার ভাসমান হাট

পিরোজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৪ ৮ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পিরোজপুরের কাউখালীতে জমে উঠেছে আমন ধানের চারার হাট। উপজেলার চিরাপাড়া নদীর ব্রিজের নিচে ভাসমান এ হাট প্রতি শুক্রবার ও সোমবার।

গত বছরের তুলনায় এবার আমন ধানের চারার দাম বেশি। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশি দামে চারা কিনছেন কৃষকরা।

কাউখালী উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখন চলছে আমন ধান আবাদের মৌসুম। মাঠের পরিচর্যা করে চারা লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও বীজতলা ডুবে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই সময়মতো চারা উৎপাদন করতে পারেননি তারা। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে নতুন উদ্যোমে শুরু হয়েছে আমনের আবাদ। কৃষকরা আমন ধানের চারা কিনতে ছুটছেন কাউখালীর চারার হাটে।

উপজেলার বেশিরভাগ জমি অন্য এলাকার তুলনায় উঁচু ও নদী বেষ্টিত হওয়ায় এখানে জলাবদ্ধতা নেই। এ কারণে বীজতলাও নষ্ট হয় না। তাই অন্য এলাকার কৃষকরাও আমন ধানের চারার সংকট কাটাতে কাউখালীর হাটে আসেন।

কাউখালীর স্থানীয় আমনের চারা ভালো মানের ও বেশি লম্বা হওয়ায় অন্য এলাকার কৃষকরা ভিড় করেন এ হাটে। চারার হাট থেকে ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর, নেছারাবাদ, রাজাপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ধানের চারা কিনে নিয়ে যান। এই হাটে আমন ধানের চারা পোন (৮০ মুঠো) হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি পোন চারার মূল্য আটশ থেকে ১২শ টাকা।

নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউপির বুইচাকাঠী থেকে চারা কিনতে আসা মো. নিজাম হাওলাদার বলেন, আমন চাষের জন্য বীজতলা তৈরির বীজ-ধান সংগ্রহ করা, তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদনে বেশ সময় লাগে। তাই কৃষকরা এই হাটে এসে প্রয়োজনীয় চারা কিনে নিয়ে জমিতে রোপণ করেন।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কৃষক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, এখন ধানের জমি চাষ করতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর পেলেও তাদের দৈনিক মজুরি ছয় থেকে সাতশ টাকা দিতে হয়। এত টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরির চেয়ে চারা কিনে চাষাবাদ করলে খরচ অনেক কম হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, এই এলাকার জমি একটু উঁচু ও নদী বেষ্টিত হওয়ায় পানি জমতে পারে না। তাই এখানকার কৃষকরা সময়মতো আমন ধানের চারার বীজতলা তৈরি করতে পারেন। কাউখালীর আমন ধানের চারা ভালো ও লম্বা হওয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়। তাই কৃষকদের কাউখালীর আমন ধানের চারার প্রতি আগ্রহ বেশি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর