Alexa বিয়ে করতে বলায় কিশোরীকে হত্যা করল প্রেমিক

বিয়ে করতে বলায় কিশোরীকে হত্যা করল প্রেমিক

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:২০ ১২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:৩০ ১২ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের বাঘারপাড়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার প্রেমিক মজিবুল ইসলাম।

মঙ্গলবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান তার জবানবন্দি শেষে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। 

এর আগে যশোরের এসপি কার্যালয়ে মজিবর রহমানকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানানো হয়। 

এ সময়  অ্যাডিশনাল এসপি (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, অ্যাডিশনাল এসপি বাঘারপাড়া সার্কেল জামাল আল নাছের, বাঘারপাড়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক সোমেন দাস ও এসআই আব্দুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

গ্রেফতার মজিবুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার চানপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরী নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার এক ভগ্নিপতি যশোর সদরের চানপাড়া গ্রামের একটা মসজিদের ইমাম। সে সেখানে বেড়াতে আসে। আর মজিবুল ইসলাম হাফেজি পাশ করে বর্তমানে যশোর শহরের মণিহার এলাকার একটি মাদরাসায় মাওলানা পড়ছেন। কিন্তু কিশোরীর ভগ্নিপতির বাসা থেকে মজিবুলের সঙ্গে পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ৩ নভেম্বর মজিবুল মোবাইল করে কিশোরীকে নড়াইলে আসতে বলেন। সেখানে আসার পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া এলাকার একটি বাড়িতে কিশোরীকে ধর্ষণ করে মজিবুল। এরপর মজিবুল তাকে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। এ সময় কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য মজিবুলকে চাপ দেয়। এতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গলাটিপে হত্যা করে একটি গর্তের মধ্যে কিশোরীর লাশ ফেলে পালিয়ে চলে যায় মজিবুল। 

পরদিন ৪ নভেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ওই লাশটি অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে কিশোরীর পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে এসে লাশের শনাক্ত করেন। 

এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বাঘারপাড়া থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে মজিবুল বাড়ি থেকে পালিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চলে যায়। এরপর আবার বাড়ি ফিরে আসেন। গত ৯ নভেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের চুটকির বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। দুইদিন চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার এসপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ