ধর্ষককে বাবা ডেকেও রেহাই পেল না গৃহবধূ

ধর্ষককে বাবা ডেকেও রেহাই পেল না গৃহবধূ

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৮ ৬ জুন ২০২০  

কবিরহাট থানা, নোয়াখালী

কবিরহাট থানা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর কবিরহাটে এক গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত। ওই সময় তার স্বামী ও খালাতো ভাইকে মারধর করেছে তারা।

বুধবার রাতে ওই উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউপির পূর্ব নবগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে পাশ্ববর্তী সুবর্ণচর উপজেলার চরবৈশাখী গ্রাম থেকে কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পূর্ব নবগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ও তার স্বামী। ওইদিন কাজ শেষ না হওয়ায় রাতে আত্মীয়ের বাড়িতেই থেকে যান তারা। ওই রাতে স্থানীয় সমাজ কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বে ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা ওই দম্পতির সম্পর্ক অবৈধ বলে বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দম্পতিকে আটক করে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। গভীর রাতে ওই দম্পতি নিজেদের মুক্তি চাইলে তাদের কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই গৃহবধূর স্বামী তার খালাতো ভাইকে বিষয়টি মোবাইলে জানালে তিনি ৩৫ হাজার টাকা আব্দুস সাত্তারের হাতে দিয়ে বাকি ২৫ হাজার টাকা পরে দেবেন মর্মে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, টাকা নিয়ে সাত্তার ওই গৃহবধূকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলে নিজের মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। ওই সময় বাকিরা তার স্বামী ও খালাতো ভাইকে মারধর করে।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ জানান, আব্দুস সাত্তার রাতে তাকে স্বামীর কাছে পৌঁছে দেয়ার নামে মেয়ের বাড়ি থেকে বের করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ৫-৬ জন দুর্বৃত্তের হাতে ছেড়ে দেন। ওই সময় সাত্তারকে বাবা ডেকেও ধর্ষণ থেকে রক্ষা পাননি তিনি। দুর্বৃত্তরা পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায়।

কবিরহাট থানার ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার শ্লীলতাহানীর অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী। শনিবার বিকেলে গৃহবধূ নিজেই ওই মামলার সম্পূরক হিসেবে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলে মামলা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর