Alexa ধর্মের ভিত্তিতে এনআরসি নয়, সংসদে দাবি অমিত শাহ’র

ধর্মের ভিত্তিতে এনআরসি নয়, সংসদে দাবি অমিত শাহ’র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৬ ২১ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এনআরসি তালিকায় নাগরিকত্ব পাবে বলে জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বুধবার সংসদে তিনি বলেন, আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি সারাদেশেই পরিচালিত হবে। এর জন্য কোনো ধর্মের কারোরই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়।

তিনি আরো বলেন, এই পঞ্জি তৈরিতে কোনো ধর্মকে নিশানায় নেয়া হয়নি। প্রতিবেশী তিন দেশের নিপীড়িত ও অত্যাচারিত অমুসলমান শরণার্থীদেরও ভারতীয় এই নাগরিকত্ব দেয়া হবে। 

রাজ্যসভায় অমিত শাহ বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান এবং পারসি শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত। তাদের ভারতের নাগরিক করে তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রয়োজন। কিন্তু হিন্দু, খ্রিস্টানসহ বাকিদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বললেও শাহ কেন মুসলিমদের এড়িয়ে গেলেন, তা জানতে চান এনসিপি সাংসদ সৈয়দ নাসিরহুসেন। জবাবে অমিত শাহ বলেন, আপনি এনআরসি এবং নাগরিক সংশোধনী বিলের মধ্য গুলিয়ে ফেলছেন। সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতেই সব কিছু হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস যাই হোক না কেন, দেশের সব নাগরিকেরই নাম নথিভুক্ত হবে এনআরসি তালিকায়। দেশের সর্বত্র এনআরসি হবে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে এনআরসি তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারেননি। এই ১৯ লাখের অধিকাংশই হিন্দু। এর ফলে রাজ্যের বিজেপি নেতারা এনআরসি তালিকা গ্রহণে আপত্তি জানিয়েছেন। তারা নতুন করে তালিকা তৈরির দাবিও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিজেপির ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে চলে আসা অমুসলমান শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এই সংক্রান্ত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে আনার কথা। এ নিয়ে অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই বিরোধে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সরকার ১৯৪৬ ও ১৯২০ সালের আইনানুসারে অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কিছু গোষ্ঠীকে ছাড় দিয়েছে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ও তার আগে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রীষ্টানদের ছাড় দেয়া হয়েছে।
লোকসভায় এ বিল পেশ হয় ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই। সে বছরের ১২ অগাস্ট বিল পাঠানো হয় যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। কমিটি তার রিপোর্ট জমা দেয় ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি। পরের দিন, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি লোকসভায় সে বিল পাশ হয়। ষোড়শ লোকসভা অধিবেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ে সরকার এ বিল রাজ্যসভায় আনার জন্য অতি তৎপর হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা সিনে ডাই হয়ে যায়। বিল আর পেশ করা হয়নি।

বুধবার সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ