Alexa ধর্মেন্দ্রর হাফ সেঞ্চুরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা!

ধর্মেন্দ্রর হাফ সেঞ্চুরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা!

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২৩:৩৯ ১৪ মার্চ ২০১৯  

ধর্মেন্দ্র

ধর্মেন্দ্র

বলিউডের ক্রান্তিকাল। ঘটনাটা ১৯৬০ সালের। তখন ছিল না কিং খানদের কোন দাপট। সে সময় অর্জুন হিঙ্গোরানি প্রথম এক যুবককে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমাতে ব্রেক দিলেন, তখনও বোঝা যাচ্ছিল না যে সে যুবক কালক্রমে ৫০ টিরও বেশি হিট সিনেমা উপহার দেবেন, হয়ে উঠবেন বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার। তবে হুম সত্যি কিন্তু সেই সুদর্শন চেহারার যুবকটি হয়ে উঠেছিলেন একজন বড় মাপের সুপারস্টার। বলছিলাম সকলের সুপরিচিত ধর্মেন্দ্রের কথা। 

এই ভদ্রলোক তার ক্যারিয়ারে সবই দেখেছেন। ২০ বছর যেমন দেখেছেন নিজের চারপাশে লেখক ও প্রযোজকদের ঘোরাফেরা করছে, আবার বাধ্য হয়ে পরিবার চালানোর জন্য নিচু মানের সিনেমাও সাইন করেছেন। ২০০ টির ওপর সিনেমায় অভিনয় করে, ব্যবসাসফল ৯৩ টি ছবি উপহার দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র।

এর মধ্যে ছিল ৪৯টিই হিট। পরিসংখ্যানে আর কোনো বলিউড অভিনেতাই ধর্মেন্দ্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। ধর্মেন্দ্রর প্রথম হিট সিনেমা ছিল ১৯৬২ সালের ‘আনপাড়’। আর এই চিরসবুজ সুপারস্টারের সর্বশেষ হিট ছবি ছিল ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’। 

এদিকে, সে হিটের জোয়ারে গেলো বছর তার ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা ফির সে’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এটা যদি হিট হত তাহলে প্রথম অভিনেতা হিসেবে ৫০টি হিট ছবির মালিক বনে যেতেন এই কিংবদন্তি। যদিও, সেটা হয়নি। ফলে, বাড়লো ধর্মেন্দ্র’র অপেক্ষা। হাফ সেঞ্চুরি করতে তাকে আরো অপেক্ষা করতে হবে।

ক্যারিয়ারের চূড়ায় ধর্মেন্দ্র ছিলেন ২৫ বছর। এই সময়ে প্রযোজক, চিত্রনাট্যকাররা তার বাড়ির সামনে লাইন ধরে থাকতেন। ১৯৮৬ সাল অবধি তিনি বড় বাজেটের ছবি করেন। এমনকি ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে ধর্মেন্দ্রর পাঁচটি ছবি বছরে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার মর্যাদা পায়। 

যার মধ্যে ছিল, ‘ফুল ওউর পাত্থার’, ‘আঁখে’, ‘হুকুমাত’, ‘শোলে’ ও ‘সিতা ওউর গিতা’।

বিস্ময়কর তথ্য হলো, খুব কম লোকই জানেন ‘শোলে’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। যারা জানেন তাদের অধিকাংশই তা মানতে চান না। সত্যি কথা হল, এই সিনেমাটির প্রচারণার সময় একে ধর্মেন্দ্রর ছবি বলে চালানো হচ্ছিল। কারণ, ওই সময়ে অমিতাভের চেয়ে ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশি। 

তবে এরপর থেকে একটু একটু করে বাড়তে থাকে বচ্চনের জনপ্রিয়তা। আর তাই এখন আমরা ‘শোলে’ বলতে দু’জনকেই বুঝি। বলিউডে টানা ধারাবাহিক সাফল্য বোঝাতে অনেক সময়ই রাজেশ খান্নার উদাহরণ দেয়া হয়। সত্যিই একটা সময়ে রাজেশ খান্না বলতেই ছিল একচেটিয়ে সাফল্য। তবে, বানিজ্যিক ভাবে বিবেচনা করলে ধর্মেন্দ্রর সাফল্য এর চেয়ে অনেক বেশি। আর রাজেশ খান্নার এই ধারাবাহিকতা ছিল স্বল্প সময়ের জন্য আর সে তুলনায় ধর্মেন্দ্র অনেকদিনের জন্য নিজেরে সাফল্য ধরে রেখেছিলেন। এতে করে ধর্মেন্দ্রর সময়টা ছিল বেশি, সিনেমার সংখ্যাও ছিল বেশি।

রাজেশ খান্না ছয় বছর ধরে যেটা করেছেন সেটা সত্যি অবিশ্বাস্য। আর ধর্মেন্দ্র একই কাজটা করেছে ২৫ বছর ধরে। কল্পনা করা যায়!

তবে, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়ার্ধে এসে ধর্মেন্দ্র তার সুদিন হারান। তিনি দ্বিতীয় সারির ছবিতে কাজ করা শুরু করেন। আর এর অধিকাংশই বক্স অফিসে কোনো দিশা খুঁজে পায়নি। ফাঁক গলে কোনো কোনোটা অবশ্য বক্স অফিসে টুকটাক সাফল্যও পেয়েছে। এর মধ্যে ‘পাপ্পি দেবতা’, ‘জুয়ারি’, ‘মহা শক্তিশালী’, ‘হাম সাব চোর হ্যায়’, ‘ধর্ম কর্ম’, ‘ভিরু দাদা’, ‘প্যায়ার কা কার্য’, ‘ডাকু ভৈরব সিং’ ইত্যাদি ছবিগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে টিকিয়ে এখনো টিকিয়ে রেখেছে।

ধর্মেন্দ্র বলিউডের দু’টি ইউনিক রেকর্ডের মালিক। তিনি সবচেয়ে বেশি হিট ছবি উপহার দেয়া সুপারস্টার আর সবচেয়ে বেশি ফ্লপ ছবি করা সুপারস্টার। তবে এখন ভক্তদের ওপর ছেড়ে দিলাম তারা হিট না ফ্লপ, কোনটার ধর্মেন্দ্রকে মনে রাখবেন, সেই সিদ্ধান্তটা তাদেরই। তবে তিনি এক কথায় বলিউডের একজন হিট মেশিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics